ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বর্ণিল আয়োজনে সারাদেশে নববর্ষ বরণ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার


বর্ণিল আয়োজনে সারাদেশে নববর্ষ বরণ

ঢাকা: বর্ণিল আয়োজনে সারাদেশে নববর্ষকে বরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় নানা রকমের আয়োজন করা হয়।

 

লক্ষ্মীপুর: আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে লক্ষ্মীপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

 

পরে সেখানে বেলুন উড়িয়ে বাংলা নববর্ষ এবং তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান। 

এ সময় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন।

 

পহেলা বৈশাখনেত্রকোনা: আবহমান গ্রাম বাংলার চিরায়ত নানা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরে নেত্রকোনায় উদযাপিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। 

“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ সকালে ঐতিহাসিক মোক্তার পাড়া মাঠের মুক্ত মঞ্চে জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ এসো এসো সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনায় পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয়। 

সকাল ৯টার দিকে জেলা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র শিক্ষক , বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সমাজের নানা শ্রেণীপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ করে।

সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী বর্ষবরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। পরে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে।

এছাড়াও জেলা শহরে মিতালী সংঘ, প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠী, মধুমাছি কচি-কাঁচার মেলা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল, নেত্রকোনা জেলা শাখা সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক পৃথক স্থানে র‍্যালি, গ্রামীন খেলাধুলা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করে।  

পহেলা বৈশাখময়মনসিংহ: আনন্দ শোভাযাত্রা ও দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে উদযাপন করেছে ময়মনসিংহের সকল শ্রেণীপেশার মানুষ। মোরগ, ঘোড়া, পায়রা, টেপা পুতুল, ইলিশ পালকি, জেলে, কামার-কুমার কিংবা কৃষক সাজে এতে অংশ নেয় অনেকেই। 

প্রথমবারের মতো সিটি করপোরেশনে উদ্যোগে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং সিটি প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকানসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ যোগ দেন। 

এরপর নগরীর ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় থেকে আলাদা আরেকটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেয়।

পরে শোভাযাত্রাটি জয়নুল আবেদিন উদ্যানে গিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে। এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

পহেলা বৈশাখব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বাঙালি জাতির আবহমান প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। 

দিনটি পালনে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ থেকে একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। 

এতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ বর্ণিল সাজে অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় ফারুকী পার্ক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাঠিখেলা, মোরগ লড়াইসহ নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফসহ আরও অনেকে। 

এদিকে বৈশাখী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ফারুকী পার্ক চত্বরে বসেছে দিনব্যাপী লোকজ মেলা। এছাড়া শহরের শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ভাষা চত্বরে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। 

পহেলা বৈশাখগোপালগঞ্জ: নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ৬টায় গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে সেখানে এসো হে বৈশাখ গান গেয়ে পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া
হয়।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া শিশু একাডেমির আয়োজনে চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের নেতৃত্বে বের করা হয় বৈশাখীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের বিভিন্ন
সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত কুমার দেবনাথ।

নওগাঁ: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনে নওগাঁয় নতুন বছরকে বরণ করা হয়েছে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে চলছে বর্ষবরণের বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের এটিম মাঠ থেকে বের করা হয় একটি আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। 

এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেন শোভাযাত্রায়।

শোভাযাত্রায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, ঘোড়া, পালকি, মাটির তৈরি বাসনসহ বিভিন্ন বর্ণের বেলুন ফেস্টুন, মাথাল শোভাযাত্রাকে বর্ণিল করে তোলে।

পহেলা বৈশাখবরগুনা: বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরগুনায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উদযাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন আয়োজনে মেতে ওঠেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।

সকালে বরগুনা শহরের শিমুলতলায় সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ’ শিরোনামে গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।

পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া একইভাবে জেলার পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করা হয়।

রাজশাহী : “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান”-সময়োপযোগী এ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উদযাপিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩।
 
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করা হয় এ বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ৭টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ রঙিন পোশাক ও বৈশাখী সাজে সজ্জিত হয়ে জড়ো হন। ব্যানার-ফেস্টুন ও বাঙালিয়ানা ঐতিহ্যের নানা উপকরণে সাজানো শোভাযাত্রাটি নগরজুড়ে সৃষ্টি করে এক উৎসবমুখর আবহ। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। 

পরে সেখানে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বর্ষবরণের গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।

বান্দরবান : নানা আয়োজনে উৎসব আনন্দে বান্দরবানে পালিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। উৎসবকে ঘিরে ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।

সকালে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু করা হয় নববর্ষের আয়োজন। এসময় বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বান্দরবান ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু।

এসময় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এসময় বান্দরবান জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের সহযোগিতায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। 

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বাঙালি সম্প্রদায় ছাড়াও পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী- পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশগ্রহণ করে।

শেষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, এসময় নেচে গেয়ে আনন্দ উপভোগ করে সবাই।

এদিকে বান্দরবানে একদিকে বাঙালিদের বাংলা নববর্ষ উদযাপন হচ্ছে আর অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বর্ষবিদায় আর বর্ষবরণকে ঘিরে চলছে কয়েকদিনব্যাপী বৈসাবির বর্ণাঢ্য আয়োজন।

শেরপুর: অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় শেরপুরে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বাঙালির জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণ।

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ বৈশাখী শোভাযাত্রা পুলিশ বাদকদলের ব্যান্ডের তালে তালে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিসি উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, পালকি, হাতপাখা, একতারা, নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুনসহ গ্রাম-বাংলার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এরপর ডিসি উদ্যানে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।

এসময় জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাঁকন রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা, পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ ও বর্ষবরণের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জেলার প্রায় শতাধিক গ্রামে বিভিন্ন হাট-বাজার ও স্কুল মাঠে বসেছে লোকজ ও গ্রামীণ বৈশাখী মেলা।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, তিন দিনব্যাপী ডিসি উদ্যানে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় দেশি-বিদেশি এবং শেরপুরের উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। আজ বিকেলে একটি বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও রয়েছে।

শাবিপ্রবি (সিলেট): বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাভবনের সামনে থেকে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই জায়গায় গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উন্নয়নে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব। তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীরা যেন নববর্ষের শপথ নিয়ে মনোযোগসহকারে পড়াশোনা করে। শিক্ষাজীবনে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; পড়ালেখা ও খেলাধুলা উভয় ক্ষেত্রেই একে অন্যকে সহযোগিতা করতে হবে।

এসময় আরও বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ইফতেখার রহমান। 

বিকেল ৩টায় মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে। সকাল থেকেই পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল নববর্ষের রঙিন উচ্ছ্বাস।

বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মাছ, তরমুজ, ডাকটিকিটের বক্স, হাতপাখাসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যের প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

শাবিপ্রবি প্রেসক্লাব: এদিকে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘শাবি প্রেসক্লাব’র উদ্যোগে বাংলা-১৪৩৩ বর্ষপঞ্জিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। দুপুরে প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বর্ষপঞ্জিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে শাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি নোমান ফয়সালের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক নুর আলমের সঞ্চালনায়  বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী,  উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান ও রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, শাবি প্রেসক্লাবের ২১তম কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমেদ, নির্বাচন কমিশনার ও স্থাপত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইফতেখার রহমান, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আ. ফ. ম জাকারিয়া, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার সালমা আক্তার, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম, আইআইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. রেজওয়ান আহমদ, বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমান, সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজকর্ম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মিজানুর রহমান, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। 

এছাড়া শাবি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মোয়াজ্জেম আফরান, ১৯তম কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান নাঈম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মেহেদী মামুন, শাবি প্রেসক্লাবের সদ্য সাবেক সভাপতি জুবায়েদুল হক রবিন, সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ শুভ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কর্মচারী সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়ন ও পরিবহন সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলাতেও উদযাপিত হচ্ছে নববর্ষ।


   আরও সংবাদ