ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৫৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার


স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের দাবি

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ। সেখানে স্বাস্থ্যসেবাও খুবই অপর্যাপ্ত।

ফলে যেকোনো দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষকে দ্বিগুণ সংকটের মধ্যে পড়তে হয়। এ অবস্থায় ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ কেবল স্লোগানে আটকে না রেখে এ খাতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

 

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা: চরাঞ্চলের একটি উপেক্ষিত বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে কোস্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটিবিডি এবং বিডিসিএসও প্রসেস।

 

সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম সংকটাপন্ন উপকূলীয় ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষ। এসব এলাকার মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ইক্যুইটিবিডির প্রধান এম রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিডিসিএসও প্রসেসের সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ, সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের সহকারী পরিচালক সৈয়দ আশরাফ হোসেন এবং সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের এম এ হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে  এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চরাঞ্চলে প্রায় ১ কোটি মানুষ বসবাস করে, যারা বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কারণে দ্বিগুণ সংকটে রয়েছে। দুর্যোগের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই থাকে না। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে চরাঞ্চলের মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, চরাঞ্চলে বসবাসরত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দ কমপক্ষে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি চরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মোবাইল মেডিকেল টিম জোরদার করে সবচেয়ে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এটা রাষ্ট্রের জরুরি দায়িত্ব।

পটুয়াখালীর চরহাদি, ভোলার চরমোজাম্মেল, চর জহিরউদ্দিন, চটকিমারা, নাগরপাটওয়ারীর চর, চর নিউটনের উদাহরণ দিয়ে এম এ হাসান বলেন, ‘এমন অসংখ্য চর রয়েছে উপকূলে। যেখানে লাখ লাখ মানুষ বাস করে। কিন্তু ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নেই। নেই কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক। অথচ এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপও দেখতে পাচ্ছি না। চরাঞ্চলকে সাধারণ গ্রামীণ এলাকার অংশ হিসেবে বিবেচনা না করে ‘চরাঞ্চল স্বাস্থ্যখাত’ নামে পৃথক বাজেট লাইন প্রণয়ন করা জরুরি।’

সৈয়দ আশরাফ হোসেন বলেন, চরাঞ্চলে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সেবার অভাবে মা ও নবজাতকের মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। জরুরি মুহূর্তে রোগী অথবা গর্ভবতী মায়েদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।


   আরও সংবাদ