আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
সরাসরি সামরিক হামলার পথ থেকে সরে এসে ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নৌ-অবরোধ জোরদার করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রি জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ইতোমধ্যে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ইরানের বিরুদ্ধে এই দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই কৌশলের লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির অর্থনীতি, বিশেষ করে তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা।
ওয়াশিংটনের ধারণা, সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনা বেশি কার্যকর হবে। তবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার দাবিতে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের মতে, এই মুহূর্তে সামরিক অভিযানের চেয়ে নৌ-অবরোধ কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি ইরানের জ্বালানি খাতকে দুর্বল করে দিতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠিন শর্তের বিপরীতে নতুন প্রস্তাব দেওয়ার আগে তারা উচ্চপর্যায়ে আরও আলোচনা করতে চান। পাকিস্তানের মাধ্যমে শান্তি আলোচনার একটি প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটনের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কারণে এই অবরোধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে অবরোধ দীর্ঘ হলে তেলের দামে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক শক্তির বদলে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করার কৌশলই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এখন দেখার বিষয়, ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই