ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:২৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশের সিমেন্ট শিল্প নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। এতে উৎপাদকরা বাধ্য হচ্ছেন এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চমূল্যে কাঁচামাল-বিশেষ করে ক্লিংকার-আমদানি করতে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ফ্রেইট ও বীমা খরচ বেড়েছে। ফলে আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা দুর্বল থাকায় উৎপাদকরা এ বাড়তি খরচ ভোক্তাদের ওপর পুরোপুরি চাপাতে পারছেন না।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের সিমেন্ট শিল্প কাঁচামালের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর।
ক্লিংকার, চুনাপাথর, স্ল্যাগ, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসামের মতো প্রধান উপকরণের বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আসে, যার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্লিংকার আমদানি করা হয়।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, আগে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তুলনামূলক কম দামে ক্লিংকার আমদানি করা যেত।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুবিধা কমে গেছে। এখন চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা ও ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এতে জাহাজ ভাড়া, বীমা ব্যয় ও পরিবহন ঝুঁকি বেড়েছে।
তার মতে, আগে যেখানে ক্লিংকারের দাম প্রতি টন ৪২–৪৩ ডলার ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে।
রয়্যাল সিমেন্ট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল মনসুর বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে কাঁচামাল সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্লিংকারের পাশাপাশি জিপসাম ও চুনাপাথরের আমদানিতেও ব্যয় বেড়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ক্লিংকারের দাম বেড়ে প্রতি টন ৫৭–৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে স্ল্যাগের দামও বেড়ে ২৩–২৪ ডলারে পৌঁছেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি ও সমুদ্রপথে ঝুঁকি বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে দেশে প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যদিও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। দুর্বল চাহিদার কারণে পুরোটা ভোক্তাদের ওপর চাপানো সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে নির্মাণ খাতে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। স্থিতিশীলতার অপেক্ষায় অনেক ডেভেলপার নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন স্থগিত রাখছেন, যা সিমেন্টের চাহিদায় প্রভাব ফেলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ব্যয় কমে যাওয়া, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং ব্যয় বৃদ্ধি-সব মিলিয়ে নির্মাণ খাত ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলো চাপে রয়েছে।
বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, গত কয়েক বছরে একাধিক ধাক্কায় এ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
বাজার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।