ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৯ মে, ২০২৬ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার


নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন

ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুললেও তা উড়িয়ে দিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

সোমবার (১৮ মে) নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

এর আগে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী সিইসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদকে হারানো হয়েছে। আমি নিজে প্রার্থী হয়েও দেখেছি নির্বাচনে কী হয়েছে।

তাই বাংলার মাটিতে এই নির্বাচন কমিশনের বিচার হবে। আবার যদি অভ্যুত্থান হয়, আগে নির্বাচন কমিশন সংস্কারে হাত দেবো।

ফার্স্ট টার্গেট হবে এটা।

 

অন্যদিকে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ইসির একার পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এটি সত্যি।

সব কমিশনই একথা বলে। গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে হাঙ্গামা ছিল না। তবে নির্বাচনটি ওপরে ঠিকঠাক, ভেতরে ছিল সদরঘাটের মতো। মোটাদাগে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। সিইসি তার প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের দোলাচল আছে।

 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ সময় হাস্যরস করে বলেন, একটা ইলেকশন যেটা হয়েছে, এটা কিরকম হয়েছে না হয়েছে, এটা বিচারের দায়িত্ব আপনাদের ওপর, দেশবাসীর ওপর। আন্তর্জাতিক অঙ্গন দৃশ্য দেখেছে, আপনারা, দেশবাসী সবাই দেখেছেন। আমাদের সাংবাদিক ভাই-বোনেরা দেখেছেন। ওইটা আমি আর ইভ্যালুয়েশনে যাচ্ছি না। ইভ্যালুয়েশনের দুইটা পার্ট। শুধু একপক্ষে বলতে গেলে... কিন্তু সবাই একপক্ষে বলেছে, একজনের প্রশংসা করেছে। এই প্রশংসার রেজাল্ট হইছে যে, এই দেশে এই বিপ্লব হয়েছে শুধু একজনের প্রশংসা করতে গিয়ে।

তিনি বলেন, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী সাহেব আমাদের জাতীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আমি কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে খুব পছন্দ করি, তিনি মুখের ওপর সব কথা বলতে পারেন। রেয়ার কোয়ালিটি। একটা জিনিস, ওনার এই ধরনের কথা শুনে আমরা অভ্যস্ত। একদম আমরা কাইন্ড অব রেজিস্ট্যান্স হ্যাভ। আমাদের সঙ্গে দেখা করতেন, দেখা করে দরজার বাইরে গিয়ে আমাদেরকে গালি দিতেন। এই গালি আপনাদের কাছে নতুন। অনেকের কাছে নতুন হতে পারে। আমি বিশ্বাস করেন, অনেস্টলি স্পিকিং, আমি সামান্যতমও মন খারাপ করিনি। উনি যেটা ফিল করেছেন, ওনার পারসপেকটিভ থেকে যেটা দেখেছেন, উনি যেটা অন্তরে বিশ্বাস করেছেন, সেটা উনি বলেছেন। এটাই তো গণতন্ত্র, এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। উনি যেটা ফিল করেন, তা বলার সুযোগ দেওয়াটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এজন্য আমি একদম আহত হইনি। 

সিইসি বলেন, আমাদের কিছু লুকানোর নাই তো। অলমাইটি নোজ। আমরা তো একটা সিরাতুল মুস্তাকিমের মধ্যে ছিলাম। আমাদের অফিসাররা এখানে যারা কাজ করেন, দয়া করে একটু গোয়েন্দাগিরি করেন, একটু খোঁজখবর নেন না, আমাদের অফিসারদের কাছ থেকে আমরা কোনো পার্শিয়াল করে, কোনো পক্ষপাতিত্ব করে কোনো সিদ্ধান্ত কোনো সময় নিয়েছি কি-না। আমরা সবাই মিলে তো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আইন-কানুনের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলাম। আমার বিবেকের কাছে আমি পরিষ্কার কিনা, সেটা একটা বিষয়। সর্বোপরি আমাকে ভাই মাটির নিচে যেতে হবে। তারপর আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। আমাকে ফাইনাল জবাবদিহি করতে হবে। এটা আমার সব সময় মাথার মধ্যে কাজ করে। সুতরাং আমাদের ভুল হতে পারে। কারণ আমরা তো ফেরেশতা নই। আমাদের ভুল-ত্রুটি হতে পারে, সেটা কিন্তু কোনো ডিজাইন নিয়ে কাজ করিনি। আমাদের ডিজাইন একটাই- একটা ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল ইলেকশন। একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ফর অল দ্য ক্যান্ডিডেটস। এটাই ছিল আমাদের নিয়ত এবং সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করেছি।

সিইসি বলেন, এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমি বলতে চাই, আপনারা হয়তো অন্যভাবে নেবেন না। কোনো ইলেকশনে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ছাড়া নির্বাচন করা অলমোস্ট ইমপসিবল। যত স্টেকহোল্ডার আছে, তার মধ্যে সরকার একটা বড় স্টেকহোল্ডার। কারণ আপনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে যারা কাজে থাকে, সবাই তো সরকারি লোক। প্রশাসনের লোকও সব সরকারের লোক। সরকারের এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সেই সাপোর্টটা আমরা আগের সরকারের কাছ থেকে পেয়েছি। এখানে আমার বলতে কোনো রকম দ্বিধা নেই। আগের যে অন্তর্বর্তী সরকার ছিল, তারা ফুল সাপোর্ট দিয়েছেন আমাদের। কোনো রকম ইন্টারফেয়ারেন্স তারা করেননি।

অনুষ্ঠানে আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল, বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলা, চার নির্বাচন কমিশনার, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সংস্থা এবং আয়োজক সংগঠনের নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 


   আরও সংবাদ