ঢাকা, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

২৩ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর লক্ষ্য ডুলির

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২২ মে, ২০২৬ ২০:২০ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার


২৩ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর লক্ষ্য ডুলির

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন টমাস ডুলি। আজ সকালে ঢাকায় পা রেখেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অংশ হন তিনি।

তবে বাফুফে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। এর আগেই এক চমকপ্রদ ঘটনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ)।

 

শুক্রবার বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ‘সারপ্রাইজ’ অতিথি হিসেবে হাজির হন ডুলি। দেশের সাবেক ও বর্তমান তারকা ক্রীড়াবিদদের মিলনমেলায় প্রথমবারের মতো অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নিজের দর্শন ও ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে ডুলি জানান, তার মূল লক্ষ্য র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি এবং দলের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনা। তিনি বলেন, ‘আমার বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হলো দলকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যেখানে তারা সুন্দর ফুটবল খেলে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।

আমি সুন্দর ফুটবল খেলতে পছন্দ করি। বলের পেছনে অকারণে ছুটে বেড়ানো বা চেজিং ফুটবল আমার পছন্দ নয়। বল পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু শুধু দৌড়ানোর কোনো মানে হয় না।’

 

বর্তমানে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে পেছনের সারিতে থাকা বাংলাদেশ দলকে এক বছরের মধ্যে ১৫০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য জানালেন তিনি।

ডুলি বলেন, ‘যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বাস্তববাদী হতে হবে। ১৬০ বা ১৫০ র‌্যাংকিংয়ে যাওয়া সম্ভব, তবে তা রাতারাতি হবে না। এটি একটি প্রক্রিয়া। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি অর্জন করা যেতে পারে।’

২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর গত ২৩ বছরে ফুটবলে বড় কোনো শিরোপা জেতেনি বাংলাদেশ। এই দীর্ঘ খরা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ডুলি।

তিনি বলেন, ‘গত ২৩ বছর ধরে আমরা কিছুই জিতিনি। এখন সময় এসেছে সেটা বদলানোর।’

সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়দের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করেন এই কোচ। নিজের লেখা বই ‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সাফল্যের চারটি স্তম্ভ রয়েছে, যার অন্যতম হলো মানসিকতা। মানসিকতা বদলানো মানে আপনার চিন্তাধারার পরিবর্তন। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে জীবনে অনেক কিছু বিসর্জন দিতে হয় এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমি আমার খেলোয়াড়দের এই বিষয়টাই বোঝাতে চাই।’

বাংলাদেশের দর্শকদের ফুটবল উন্মাদনা এবং তাদের প্রত্যাশার চাপ সম্পর্কেও আগে থেকেই সচেতন ডুলি। এশিয়ায় এর আগে ফিলিপাইন জাতীয় দল এবং মালয়েশিয়ায় কাজ করার সুবাদে এই অঞ্চলের ফুটবল সংস্কৃতি তার বেশ চেনা। দক্ষিণ আমেরিকায় কাজ করলেও তার স্বপ্ন ছিল আবার এশিয়ায় ফেরা। তাই বাংলাদেশের প্রস্তাব পেয়ে দেরি করেননি তিনি।

দর্শকদের চাপ ও সমালোচনা নেওয়ার বিষয়ে তিনি প্রস্তুত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডুলি মজার ছলে বলেন, ‘আমি জার্মানি থেকে এসেছি, সেখানেও একই অবস্থা। বাংলাদেশে সম্ভবত এক মিলিয়ন কোচ আছেন, যারা ফুটবলের সবকিছু বোঝেন। এটা ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশি ভক্তদের উন্মাদনার বিষয়ে উপস্থাপক যখন তাকে ফেসবুক সাবধানে ব্যবহারের পরামর্শ দেন, তখন হেসে ডুলি বলেন, ‘আমি জানি! ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে আমার এক মিলিয়ন বন্ধু হয়ে গেছে।’

সবশেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশের ক্রীড়াঙ্গনের চ্যাম্পিয়নদের অভিনন্দন জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন টমাস ডুলি। 


   আরও সংবাদ