ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

জার্মানিতে জন্মহার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বনিম্নে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১৮ জুন, ২০২৬ ১৪:১৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


জার্মানিতে জন্মহার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বনিম্নে

জার্মানিতে শিশু জন্মহার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের (ডেস্টাটিস) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জার্মানিতে জন্ম নিয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৩০০ জন শিশু, যা ১৯৪৬ সালের পর সর্বনিম্ন।

 

গত কয়েক দিনে জার্মানির একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর দেশটিতে নতুন করে জনসংখ্যা সংকট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে জন্মহার কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

টানা চতুর্থ বছরের মতো দেশটিতে জন্মের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। একই সময়ে দেশটিতে মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় ১০ লাখ ১০ হাজার মানুষ।

ফলে জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজারে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

যে কারণে কমছে জন্মহার

পরিসংখ্যান দপ্তরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই নিম্নমুখী ধারার পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে।

প্রথমত, নব্বইয়ের দশকে জার্মানিতে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল, আর তারাই এখন সন্তান জন্মদানের বয়সে পৌঁছেছেন। দ্বিতীয়ত, ২০২২ সাল থেকে দেশটিতে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে সামগ্রিক উর্বরতার হার (ফার্টিলিটি রেট) ধারাবাহিকভাবে কমছে।

 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। অনেক মানুষ এখন পরিবার গঠন না করেই স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির সামগ্রিক উর্বরতার হার ছিল নারীপ্রতি ১ দশমিক ৩৮, যেখানে একটি জনগোষ্ঠীর আকার অপরিবর্তিত রাখতে নারীপ্রতি অন্তত ২ দশমিক ১ প্রয়োজন।

জার্মানির পূর্ব-পশ্চিমেও পার্থক্য

জন্মহার কমার এই ধারা পুরো জার্মানিতে সমান নয়। সাবেক সোভিয়েত-শাসিত পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে জন্মহার কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে পশ্চিমাঞ্চলে কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

এ ছাড়া দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় মেকলেনবুর্গ-ফরপোমার্ন রাজ্যে জন্মহার কমেছে প্রায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। ব্যতিক্রম শুধু হামবুর্গ, যেখানে জন্মহার সামান্য বেড়েছে, প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জার্মানির বার্ষিক জন্মসংখ্যা আগামী দিনে ২০২১ সালের পর্যায়ে, অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ ৯৫ হাজারে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা অদূর ভবিষ্যতে কম।

ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তা

জন্মহার কমার পাশাপাশি জার্মানিতে বার্ধক্যের হারও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালের হিসাবে দেশটিতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশ। ১৯৯১ সালে এই হার ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে শ্রমবাজার ও অবসরভাতা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বর্তমান জোট সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ৩০ জুন অবসরভাতা সংস্কার নিয়ে একটি নতুন সুপারিশ পেশ করার কথা রয়েছে। মানুষের অর্থনৈতিক সংকটের কথা বিবেচনা করে সরকার শিশুদের জন্য ভাতাও বৃদ্ধি করেছে।

অভিবাসনের কারণে জার্মানির মোট জনসংখ্যা এখনো প্রতি বছর বাড়ছে, তবে প্রাকৃতিক জন্ম-মৃত্যুর হিসাবে দেশটি জনসংখ্যা হারাচ্ছে।


   আরও সংবাদ