ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২৭ জুন, ২০২৬ ১৬:১৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১০ বার


ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের সঙ্গে ড্র করে যখন নকআউটের টিকিটের জন্য অন্য দলগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে ইরানকে, ঠিক তখনই মাঠের বাইরের এক চরম ক্ষোভ ও হতাশা সামনে নিয়ে এলেন দলটির অধিনায়ক মেহেদি তারেমি। 

ফিফা এবং এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর তীব্র সমালোচনা করে বিশ্বকাপের এই লজিস্টিক ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনাকে সরাসরি ‘একটি বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

 

মিশরের সঙ্গে ম্যাচটি শেষ হওয়ার পরপরই সিয়াটল ছেড়ে আবারও মেক্সিকোর টিজুয়ানায় নিজেদের ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তারেমি ও তার দলের। অথচ টুর্নামেন্ট চলাকালীন তাদের ক্যাম্প থাকার কথা ছিল আমেরিকার অ্যারিজোনার টুসন শহরে।

 

 

কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা চালালে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

এই চলমান সামরিক সংঘাতের কারণেই গত মে মাসের শেষদিকে ইরান দল বাধ্য হয়ে তাদের ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থানান্তরিত করে।

 

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রতি ম্যাচের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ইরান দল ও তাদের স্টাফদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অধিনায়ক তারেমির অভিযোগ, পরিস্থিতি সহজ করার যে প্রতিশ্রুতি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো দিয়েছিলেন, তা তিনি রক্ষা করতে পারেননি।

 

মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তারেমি। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করা এই তারকা ফরোয়ার্ড বলেন, “এটি একটি বিপর্যয়কর বিশ্বকাপ, স্রেফ বিপর্যয়। ফিফার উচিত ছিল এখানকার সব সমস্যার সমাধান করা, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শুরু থেকেই তারা তা করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ শেষে আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে মি. ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘এটা তো কেবল শুরু...’ অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের লজিস্টিক সাপোর্টের মানুষগুলো এখানে আসতে পারেনি, কারণ তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি। প্রতি ম্যাচের পর আমাদের কেন সবসময় তিজুয়ানায় ফিরে যেতে হবে? আমরা তিজুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি, মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা খুবই বিনয়ী মানুষ। কিন্তু একটি পেশাদার প্রতিযোগিতায় পেশাদার খেলোয়াড়দের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই সঠিক হতে পারে না।’

তারেমি সরাসরি ফিফার নিয়ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এটা মোটেও ফেয়ার নয়। তারা যদি চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তবে তাই হোক, আমরা চলে যাচ্ছি। কিন্তু এই অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের ফিটনেস রিকভারি বা লজিস্টিক দেখাশোনার জন্য কোনো মানুষ নেই। আমরা এসব নিয়ে সবসময় অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ আমাদের সাহায্য করছে না, কেউ না।’

উল্লেখ্য, মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী বক্তৃতায় ইনফান্তিনো বলেছিলেন যে, ইরান দলকে টুর্নামেন্টে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন হলে তিনি নিজে তেহরান থেকে বাস চালিয়ে আসবেন। কিন্তু বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো বলে দাবি তারেমির।

মিশরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর গ্রুপ ‘জি’-তে তৃতীয় স্থানে থেকে খেলা শেষ করেছে ইরান। তবে সেরা চার ৩য় স্থান অধিকারী দলের একটি হয়ে শেষ ৩২-এ যেতে হলে আজকে রাতের বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের।

সমীকরণ বলছে, গ্রুপ ‘জে’-তে যদি আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া ম্যাচটি ড্র হয় (যা দুই দলকেই পরের রাউন্ডে পাঠাবে), ডিআর কঙ্গো যদি উজবেকিস্তানকে হারায় এবং ক্রোয়েশিয়া যদি ঘানার বিপক্ষে অন্তত ১ পয়েন্ট পায়; তবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হবে ইরানকে। তবে কাগজেকলমে এখনো ইরানের নকআউট পর্বে যাওয়ার ৯২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।


   আরও সংবাদ