ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জুন, ২০২৬ ১৬:২৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স থেকে ৪৩ বস্তা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে দানবাক্স খোলার পর শুরু হওয়া টাকা গণনার কাজ এখনো চলছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

ছবি: স্টার।
জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদের দানবাক্স সাধারণত চার থেকে ছয় মাস পরপর খোলা হয়। এবার ছয় মাস পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের ধারণা, এবারের দানের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর, তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। তখনও নগদ অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার ও হিরার গহনাও পাওয়া যায়।
দানবাক্স থেকে বের করা অর্থ প্রথমে লোহার সিন্দুক থেকে বস্তায় ভরা হয়। পরে সেগুলো গণনার জন্য মেঝেতে ঢেলে রাখা হয়। গণনার সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নাহিদ হাসান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পাগলা মসজিদ কমিটির সদস্যসচিব মো. কামরুল হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়াসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাগলা মসজিদের এতিমখানার শিশুরাও রয়েছে। এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৫০০ সদস্য এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা এ কাজে যুক্ত আছেন।

ছবি: স্টার।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সে পাওয়া উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে ব্যাংকে জমা রয়েছে প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া অনলাইন ডোনেশনের মাধ্যমে আরও প্রায় ২৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। শনিবার গণনা শেষে পাওয়া অর্থও ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা জেলা প্রশাসনের কোষাগারে সংরক্ষণ করা হয়। পরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করে অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়।
জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, জমাকৃত অর্থের লভ্যাংশ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে টাকা গণনা এবং নিরাপদে ব্যাংকে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া বছরের বাকি সময়ও দানবাক্স ও সিন্দুকের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকে।