স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১০:১৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৪ বার
মাঠের লড়াই শুরুর আগে ফরাসিদের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার ছুড়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। কথা রেখেছেন স্প্যানিশ তরুণ।
কিলিয়ান এমবাপ্পের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন চুরমার করে দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনছে লা রোজারা।
টেক্সাসের আর্লিংটনে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল রেখে ছড়ি ঘোরাতে থাকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। বিপরীতে কাউন্টার অ্যাটাকের আশায় ছিল ফ্রান্স।
ম্যাচের ১৬ মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। ওসমান দেম্বেলের দারুণ পাস থেকে ফাঁকায় বল পেলেও স্প্যানিশ রক্ষণের চাপে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি তিনি।
উল্টো ২০ মিনিটে নিজেদের বক্সে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে বসেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। ভিএআরের সাহায্যে পাওয়া পেনাল্টি থেকে ২২ মিনিটে নিখুঁত স্পটকিক থেকে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। গোল হজমের ধাক্কার পাশাপাশি ২৮ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। ফলে প্রথমার্ধেই ব্যাকফুটে চলে যায় দিদিয়ের দেশমের দল।
বিরতি থেকে ফিরেও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। ফরাসিদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ না দিয়ে ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। দারুণ এক ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-০ করেন এই স্প্যানিশ তারকা। ঠিক তিন মিনিট পর (৬১ মিনিটে) লামিনে ইয়ামালের একটি গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বাতিল না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৬৮ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া এমবাপ্পের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ব্লক করেন মার্ক কুকুরেয়া। অন্যদিকে, ৮০ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল স্পেন। ওইয়ারসাবালের বদলি হিসেবে নামার কয়েক মিনিট পরই ফেরান তোরেসের একটি হেড অল্পের জন্য গোলবারের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে স্প্যানিশ রক্ষণে রীতিমতো ঝড় তোলে ফ্রান্স। তবে গোলরক্ষক উনাই সিমন ও ডিফেন্ডার কুকুরেয়ার বীরত্বে ফরাসিদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। ৮২ মিনিটে বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে কিছুটা ভুল করে বসেছিলেন সিমন, তবে দ্রুতই পজিশনে ফিরে এসে দেজিরে দুয়ের শট বক্সের ভেতর থেকে ব্লক করে দলকে বাঁচান তিনি। পরের মিনিটেই থিও হার্নান্দেজের আরেকটি দারুণ শট রুখে দেন এই গোলরক্ষক।
৮৯ মিনিটে এমবাপ্পের একটি শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে ফ্রান্সের ম্যাচে ফেরার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরের মিনিটে ফরাসি অধিনায়কের আরেকটি প্রচেষ্টা নিজেদের পেনাল্টি বক্স থেকে ক্লিয়ার করে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন কুকুরেয়া।
রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির। এমবাপ্পের বিষাদের রাতে ফরাসিদের দম্ভ চূর্ণ করে ২০১০ সালের পর নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতোয়ারা এখন পুরো স্পেন।