ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

একই সঙ্গে সরকারও পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও জনমতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য ও পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনভর আন্দোলন শেষে রাত ১০টার দিকে আন্দোলন শেষ করে আবারও বুধবার (১৫ জুলাই) কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজনে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লং মার্চ করবেন বলে ঘোষণা দেন।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলিনি।

যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়ে মন্ত্রীর এই দুঃখপ্রকাশকে স্বাগত জানান।

 

 

সম্প্রতি বৃষ্টির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন এবং এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রীর ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই মন্তব্যের জেরে তার পদত্যাগ, পরীক্ষা স্থগিতসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনকারীরা মন্তব্য প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিকার দাবি করেন।

রাজধানীতে সায়েন্সল্যাব মোড়, শাহবাগ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে, উত্তরা বিএনস সেন্টার এবং জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে দিনভর আন্দোলনের কারণে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের প্রতি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রে ভুল, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

সংসদে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে এসে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা নিয়ে বাস্তব সমস্যা বা ত্রুটি হয়েছে, সেসব বিষয়ে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করা নয়, বরং তাদের শিক্ষাজীবন স্বাভাবিক রাখা।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে জনসম্মুখে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তবে সংসদে দুঃখ প্রকাশের পর পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক দিকে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও সংবেদনশীল অবস্থান নেওয়ার দিকেই জোর দিচ্ছে সরকার।

উসকানি, বাড়তি সতর্কতা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভকে উসকে দিতে ভুয়া খবর ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান শোনা গেছে। পাশাপাশি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে কিছু শিক্ষার্থীকে কথা বলতেও শোনা যায়।

মাঠ থেকে পরীক্ষা স্থগিতের মতো পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি

এর আগে বিকেলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামন বাংলানিউজকে জানান, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে পরীক্ষা স্থগিতের মতো পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষামন্ত্রীকে অতিকথন বন্ধ করার আহ্বান

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বাংলানিউজকে বলেন, দুর্যোগের ঘনঘটার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন ও পরীক্ষার্থীদেরকে ‘ফার্মের মুরগী’ আখ্যা দেওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা রাজপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে।

 

 

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করার প্রেক্ষিতে জিয়াউল কবির দুলু এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রীকে আরও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে অতিকথন বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে ১২ ও ১৩ তারিখে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রাস্তা ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করার প্রেক্ষিতে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে পদক্ষেপ নিলে বর্তমান অবস্থার সৃষ্টি হতো না। তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ধ্বংস করা শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থবির অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রচেষ্টা চালালেও অতিকথনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বিধায় এমন উদ্ভূত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। তাই বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশের স্বার্থে শিক্ষামন্ত্রীকে আরও দূরদর্শিতার পরিচয় ও অতিকথন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের ছবি পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছেড়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশের অনুরোধ জানিয়েছেন। রাতে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে কেন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও যথেষ্ট ভেবেছে। পারিপার্শ্বিক সব পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে, বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে জানা গেছে, দেশজুড়ে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

তিনি জানান, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা একটি দায়বদ্ধতা। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয় সেটি যেমন সরকারের লক্ষ্য, ঠিক তেমনি তাদের দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করে যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করাও দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিগত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। মঙ্গলবার সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। সর্বসম্মত মতামত এসেছে যে, চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের সব বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তবে একই সঙ্গে সীমিতসংখ্যক হলেও, যে কোনো শিক্ষার্থীর ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

সারা দেশে দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, তার মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও নিশ্চয়ই পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। মিথ্যা-পুরোনো ছবি ও ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার চালানো, কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও উসকানি দেওয়া গণ-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে কোমলতি শিক্ষার্থীরা নিশ্চয় সজাগ রয়েছে।


   আরও সংবাদ