ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ইরান কখনো শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ১০:১১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫৩ বার


ইরান কখনো শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করবে না

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি বলেছেন, শত্রু যখন জোর করে রাষ্ট্র ও জনগণের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চায়, তখন পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার মোকাবিলা করা উচিত।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইরান কখনোই শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করবে না; বরং আল্লাহর ওপর আস্থা, জনগণের সমর্থন ও ঐক্যের মাধ্যমে শত্রুকে পরাজিত করা হবে।”

শনিবার (৩ জানুয়ারি) হযরত আলী (রা.)-এর শুভ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ কাসেম সোলাইমানি ও তার সহযোদ্ধাদের পরিবারসহ অন্যান্য ইরানি শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, “শত্রুর বর্তমান কৌশল সরাসরি যুদ্ধের পাশাপাশি ‘সফট ওয়ার’ বা নরম যুদ্ধের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে হতাশা, সন্দেহ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।

গুজব ও মিথ্যার মাধ্যমে জাতির মনোবল দুর্বল করাই এর মূল লক্ষ্য। তবে ইরানি জনগণ বারবার প্রমাণ করেছে, কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে শত্রুকে হতাশ করতে সক্ষম।”

 

মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনে নাশকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রতিবাদ করা জনগণের অধিকার, কিন্তু প্রতিবাদ আর বিশৃঙ্খলা এক বিষয় নয়। সরকারকে প্রতিবাদকারীদের কথা শুনতে হবে, তবে যারা ভাড়াটে বা উসকানিদাতা হয়ে জনগণের দাবিকে ব্যবহার করে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

ইসলামি বিপ্লবের এই নেতা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক এবং এর পেছনে শত্রুর হাত রয়েছে, যা অবশ্যই প্রতিহত করতে হবে।

খামেনি সতর্ক করে বলেন, শত্রুতা পোষণকারী গোষ্ঠীগুলো বৈধ অর্থনৈতিক দাবিগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, মূল সমস্যা হলো—কিছু উসকানিদাতা ও শত্রুর ভাড়াটে লোক ব্যবসায়ীদের আড়ালে দাঁড়িয়ে ইসলামবিরোধী, ইরানবিরোধী ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, বিভিন্ন নাম ও পরিচয়ে কিছু গোষ্ঠী দেশের ভেতরে নাশকতা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরির উদ্দেশ্যে ধর্মপ্রাণ, সুস্থ ও বিপ্লবী ব্যবসায়ীদের আড়ালে দাঁড়িয়ে তাদের আন্দোলনকে অপব্যবহার করছে— এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

তিনি বলেন, শত্রুর কৌশল চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। শত্রু কখনো বসে থাকে না; তারা সব সুযোগ কাজে লাগায়। যদিও সরকার ও কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতির সম্মিলিত ঐক্য।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, শত্রু যখন উদ্ধতভাবে রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের ওপর নিজের দাবি চাপিয়ে দিতে চায়, তখন শক্তভাবে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে তার মোকাবিলা করতে হবে।

ব্যবসায়ী ও বাজারকেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাসে বাজার ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বিশ্বস্ত শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন।

তবে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ব্যবসায়ীদের দাবিকে কাজে লাগিয়ে ইসলাম, ইরান ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

 

আয়াতুল্লাহ খামেনি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করে বলেন, মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তব সমস্যা। সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং এর সমাধানে কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, প্রতিবাদ করা বৈধ অধিকার, কিন্তু প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক বিষয় নয়। প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কথা বলা দরকার, কিন্তু দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ নেই। তাদের উপযুক্তভাবে দমন করতে হবে।


   আরও সংবাদ