ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ভোটের দিন — জালিয়াতি রোধে তিন পক্ষের করণীয়

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২২:০১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫২ বার


ভোটের দিন — জালিয়াতি রোধে তিন পক্ষের করণীয়

ভোটের দিন — জালিয়াতি রোধে তিন পক্ষের করণীয়ঃ: এম.এ.এ. বাদশাহ্ আলমগীর 

(এজেন্ট, ভোটার ও নির্বাচন কমিশন)

 

ভোট শুধু কাগজের টুকরো নয়—এটা জনতার কণ্ঠ, জাতির আত্মমর্যাদা। যদি ভোটে ভরসা না থাকে, রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিই কেঁপে ওঠে। (সংবিধান: ধারা ৭ ও ১১)। আন্তর্জাতিক নীতিতেও একই বার্তা—UDHR (ধারা ২১), ICCPR (ধারা ২৫) ও OSCE/ Venice নির্দেশনা সবাই বলছে: নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ, স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য।

 

বাংলাদেশে Representation of the People Order, 1972 (RPO) কেবল আইনের কথা না—এটা প্রয়োগের শক্তি চায়। বিশেষত অনুচ্ছেদ ৩১(৫)(ক) পোলিং এজেন্টকে ব্যালট পেপারের পেছনে অনুমোদিত সিল যাচাই করার অধিকার দেয়—এই অধিকারই জালিয়াতি রোধের প্রথম ঢাল। কিন্তু আইন কার্যকর করতে লাগে সাহস, সততা ও দায়িত্ববোধ। নীচে সরল, শক্তিশালী এবং কাজের বাস্ফোর নির্দেশিকা—ভোটের দিন যাতে অন্ধকার নামে না:

 

ক.পোলিং এজেন্ট — গণতন্ত্রের প্রহরী:

আপনি দলের প্রতিনিধি; তবে কেন্দ্রের পরিসরে আপনি আইনের চোখ।

 

কী করবেন: 

১. ব্যালট বিতরণে পেছনের সিল যাচাই করুন (RPO অনুযায়ী)।

২.ব্যালট বাক্স খালি দেখানো ও সিল করার সময় উপস্থিত থাকুন।

৩.ভোটার তালিকা মিলছে কি না লক্ষ্য করুন।

৪. অপেক্ষা নয় — পদক্ষেপ নিন

৪.ক. জাল ব্যালট, একাধিক ভোট বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রিসাইডিং অফিসারকে জানান।

৪.খ.লিখিত আপত্তি জমা দিন; প্রয়োজনে ফলাফল শীটে মন্তব্য রাখুন।

৫.গোপনীয়তা বজায় রাখুন

৫.ক. গোপন বুথে কোনো রেকর্ডিং বা হস্তক্ষেপ করবেন না। অ-গোপন অংশে প্রমাণ রাখতে হলে কমিশনের নির্দেশ মেনে চলুন।

 

খ.ভোটার — গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি

আপনার একটি ভোট = দেশের একটি কণ্ঠ। কণ্ঠকে নিরাপদ রাখুন।

 

কী করবেন

১. পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন; তালিকায় নাম যাচাই করুন।

২. একান্তে গোপনে ভোট দিন; কাউকে ব্যালট দেখাবেন না।

৩. যদি প্রলোভন বা জবরদস্তি দেখেন, কর্তৃপক্ষকে জানান এবং আইনি সহায়তা নিন।

নীরব থাকা মানে অন্যায়কে সুযোগ দেওয়া। সাহসী ভোটারই অনিয়ম ঠেকাতে পারে।

 

গ.নির্বাচন কমিশন — দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ অভিভাবক: কমিশনের কাজ শুধু নির্বাচন নয়—জনআস্থা নিশ্চিত করাও তাদের প্রধান কর্তব্য।

 

কী করবেন

১. RPO ও সংশ্লিষ্ট আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করুন।

২. দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করুন।

৩. গোপন বুথ ব্যতীত পর্যবেক্ষণযোগ্য এলাকায় প্রযুক্তি (CCTV/লাইভ) পাইলট করুন—তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার কড়া বিধি থাকবে।

৪. কার্যকর অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু রাখুন।

৫. নিরপেক্ষতা কেবল থাকতে হবে না—জনগণের কাছে তা দৃশ্যমান করতে হবে। (Venice Commission অনুসারে জনআস্থা নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি)

 

শেষ কথা — সততার জয়, গণতন্ত্রের জয়: জালিয়াতিমুক্ত নির্বাচন কোনো দলের একতরফা জয় নয়; এটি জাতির নৈতিক ও সাংবিধানিক বিজয়।

১. আইনের স্বীকৃতি থাকলে সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা পায়।

২.স্বচ্ছতা বাড়লে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ফিরে আসে।

৩. স্থির নীতিমালা থাকলে রাজনৈতিক স্থিরতা বাড়ে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।

পোলিং এজেন্ট সতর্ক থাকুক, ভোটার সচেতন হোক, কমিশন দৃশ্যমান ও কার্যকর থাক—তবেই আলোর জানালা খুলবে।


   আরও সংবাদ