ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:১০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাধার মুখে পড়ে ইউরোপের বাজার দখলে নিতে মূল্য ছাড় দিচ্ছে চীন। এর ফলে প্রধান বাজারে প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। তাতে কমছে প্রবৃদ্ধি, বাড়ছে ঝুঁকি। উদ্যোক্তা নেতারা বলছেন, এ অবস্থা তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রস্তুতির অভাব হলে সংকট ঘনীভূত হবে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবৃদ্ধি করেছে ৬ শতাংশ। এ সময়ে পশ্চিমের অঞ্চলটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরো।
একই সময়ে বাজারটিতে প্রধান রপ্তানিকারক দেশ চীন রপ্তানি করেছে ২৬.৫৮ বিলিয়ন ইউরো, যা দেশটির আগের বছরের রপ্তানির চেয়ে ২.১৭ শতাংশ বেশি।
আর তুরস্কের ১৩ শতাংশ রপ্তানি সংকোচন হয়েছে।
এ সময়ে দ্বিতীয় সারির রপ্তানিকারক দেশগুলোর রপ্তানি বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রপ্তানি বেড়েছে ৮ শতাংশ, কলোম্বিয়ার বেড়েছে ১৪.৬৬ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৯.৬৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ৯.৬৪ শতাংশ আর মরোক্কো আগের রপ্তানির অবস্থানই ধরে রেখেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে বেশি প্রবৃদ্ধি হওয়া দেশগুলোর রপ্তানির পরিমান বাংলাদেশের এক-চতূর্থাংশ বা তারও কম।
আর চীনের তুলনায় এক পঞ্চমাংশ। পুরো ইউরোপে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমান ৯০ বিলিয়ন ইউরো। আর প্রবৃদ্ধির হার ২.১০ শতাংশ।
রপ্তানি আয় বিবেচনায় এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ মাঝামাঝি অবস্থা ধরে রেখেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় এক বিলিয়ন ইউরো বেশি। তবে এই রপ্তানি ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশকে মূল্য কমাতে হয়েছে।
মূল্য কমিয়ে রপ্তানি ধরে রাখার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে চীন।
মূল্য কমিয়ে বাজার দখলের চেষ্টা:
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুসারে, জানুয়ারি-ডিসেম্বর পুরো ইইউতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২.১০ শতাংশ, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরো। আগের বছরের তুলনায়, পণ্যের পরিমান বেড়েছে ১৩.৭৮ শতাংশ। আর মূল্য কমেছে প্রায় ১০.২৭ শতাংশ।
তবে এই মূল্য হ্রাস সব দেশের সমান নয়। বাংলাদেশ ৩.৮৪ শতাংশ মূল্য হ্রাস করে রপ্তানির পরিমান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে চীনের হ্রাসের হার বেশি। দেশটি ইউরোপের বাজারে ইউনিট প্রতি ৯.৩৮ শতাংশ মূল্য কমিয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৬০.৩৯ বিলিয়ন ইউরো (৭ হাজার ১৯০ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ডলার)। দেশটিতে দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ চীনের রপ্তানি কমেছে ৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে প্রথম শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ ভিয়েতনামের বেড়েছে ১১.৩৫ শতাংশ। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১২.৪৩ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বলছেন, পোশাকের দাম আর কমানো সম্ভব না। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন ইস্যুসহ বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, বন্দর সমস্যার মত সমস্যা পোশাক শিল্পের লিড টাইম বাড়াবে, তাতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়াবে। ফলে আগামীতে সংকট আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে নিট তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমরা ইচ্ছা করলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না। চীনই যেখানে ব্যর্থ হয়ে দাম কমিয়ে রপ্তানি বাড়াচ্ছে, সেখানে আমরা না কমিয়ে পারবো না। এ জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকের ঋণের সুদ হার কমিয়ে আনতে হবে। গ্যাস বিদ্যুতের সরবাবহ বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে বাড়তি ডিজেল ব্যবহার জনিত কারণে খরচ না বাড়ে।’
তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেএমইএ) সাবেক পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য দিয়ে এখনো বাজার ধরে রেখেছি। কিন্তু পণ্যের দাম কমিয়ে রপ্তানি করা সম্ভব হবে না। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর শ্রমসহ নানা ইস্যুতে পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হবে। এজন্য লিড টাইম কমিয়ে আনার মাধ্যমে আরও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘লিড টাইম বৃদ্ধির মূলে রয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও বন্দর সমস্যা। এ কারণে আমরা উচ্চ মূল্যের পোশাক তৈরি করতে স্বাচ্ছন্দ্য না। ক্রেতারা কার্যাদেশ দেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে সরবারহ পেতে চায়। আমরা যা অধিকাংশ সময়েই পারি না। সাধারণ মানের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রেই আমরা এ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। বেশি দামের পোশাকের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়বে। সে জন্য আমাদের দরকার প্রস্তুতি।’