ঢাকা, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

কেউ প্রলোভন দেখিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নেবে, সে সুযোগ নেই

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২১:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার


কেউ প্রলোভন দেখিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নেবে, সে সুযোগ নেই

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, কেউ আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নিতে পারবে না। সেই সুযোগ আমার মধ্যেও থাকবে না, কাউকেও দেব না। এটা আমার প্রতিশ্রুতি, এটা আমার অঙ্গীকার। এই শিক্ষা আমি পরিবার থেকে পেয়েছি, ছাত্ররাজনীতি থেকে পেয়েছি।

আমার প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থেকে কাজ করার সুবাদেও পেয়েছি।

 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাব আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লক্ষ্মীপুর টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য।

 

এ্যানি বলেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি এত অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি, হয়তো আমার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত। আমার শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, আমি যেন সারাটা জীবন সেই সম্মান ধরে রাখতে পারি।

 

মন্ত্রণালয়ের কাজে সবার পরামর্শ আহ্বান করে মন্ত্রী বলেন, আমি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছি। সেটি হলো পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বেশি ভাঙন এলাকা আমাদের রামগতি, সদর ও রায়পুরে। লক্ষ্মীপুর এবং দেশের জন্য আগামী দিনে কিছু করার সুযোগ রয়েছে এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় প্রভাবে কোনো সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবে; এ সুযোগ থাকবে না।

আমার ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব একটি আমানত। এই কঠিন দায়িত্ব পালনের জন্য আমি সজাগ ও সতর্ক আছি। আমাদের দেশে দুর্নীতি ছড়িয়ে গিয়েছিল। দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।

 

পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, পাঁচ দিন হয়েছে আমরা শপথ নিয়েছি। বিএনপি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। আমরা আশা করেছিলাম, যেদিন আমরা শপথ নেব, সেদিন বিরোধীদল উপস্থিত থাকবে এবং আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবে। প্রথম দিন থেকেই আমরা সেই আশা নিয়ে বসে আছি এবং সামনের দিনগুলোতেও থাকব। একটি সরকার শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার কর্মকাণ্ড শুরু করে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য যে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও প্রত্যাশা ছিল, সেদিন যদি তারা উপস্থিত থাকতেন, তাহলে গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া আরও সুন্দর হতো। হয়তো সে চিন্তা তারা করেননি। এখন থেকে বিরোধীদলকে সে চিন্তা করতে হবে।

বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন। ভোটের পরিবেশ কেমন ছিল, ভোট কীভাবে হয়েছে—এটি সবার অবস্থান থেকে দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু ভোটের দিন থেকেই যদি বলা হয়, নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে বা ম্যানেজড হয়েছে, তা আমাদের আহত করে। এ ধরনের বক্তব্য না দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রয়েছে। আমরা চাই জনগণের আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণে একটি দেশপ্রেমিক সরকার কাজ করুক। দেশপ্রেমিক সরকারের অংশ হিসেবে মতপার্থক্য থাকতে পারে, পথ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে আমরা এক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করব।

বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার দুটি সভায় তার বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে। তিনি দেশের জন্য একজন বড় পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন বলে আমার বিশ্বাস হয়েছে। তিনি সততাকে বেশি মূল্যায়ন করছেন। প্রথম দিন থেকেই তিনি প্রতিটি মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী ও বিভাগ নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আ হ ম মোশতাকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম পাবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ননী গোপাল ঘোষ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জেড এম ফারুকী এবং লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন পাঠান প্রমুখ।


   আরও সংবাদ