ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ইরাকি আকাশসীমা ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার


ইরাকি আকাশসীমা ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরাকি আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করে প্রতিবেশী কোনো দেশের ওপর হামলা চালানো যাবে না। অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটের মুখে পাকিস্তানে ‘যুদ্ধকালীন কৃচ্ছ্রসাধন নীতি’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।

 

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-সুদানি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক ফোনালাপে ইরাকের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরাককে কোনোভাবেই আঞ্চলিক যুদ্ধের লঞ্চ প্যাড বা কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে জানান, ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে যেকোনো পক্ষের আকাশসীমা ব্যবহার বা দেশটিকে চলমান সংঘাতে টেনে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করছেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে।

 

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলাগুলো নিছক আত্মরক্ষণমূলক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ওপর হামলা চালালে আমরা তাদের আঞ্চলিক ঘাঁটি ও সম্পদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাব। যেহেতু আমরা সরাসরি আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে পারছি না, তাই এই অঞ্চলে তাদের স্থাপনায় হামলা চালানো আমাদের আইনি অধিকার।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশজুড়ে ‘যুদ্ধকালীন কৃচ্ছ্রসাধন’ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

 

ঘোষণায় রয়েছে: সরকারি অফিসগুলোয় সপ্তাহে ৪ দিন কাজ চলবে; আগামী দুই সপ্তাহ সব স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে এবং উচ্চশিক্ষা অনলাইনে চলবে; সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে এবং সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কাটার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে বিশ্ব তেল বাজারে ‘বিপর্যয়কর’ প্রভাব পড়বে। তিনি একে এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইরান ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছে, তাদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে এই রুট দিয়ে কোনো তেলবাহী জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

 


   আরও সংবাদ