ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৫ বার
এবার ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে ঘনবন হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। শান্ত, নিরিবিলি, গাড় সবুজ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবনের মধ্যে কয়েকটা দিন কাটিয়ে আসতে পারেন। সুন্দরবন অপেক্ষা করছে অনিন্দ্য আর ভয়ংকর সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে আপনার জন্য।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অ্যাডভেঞ্চার, ভয় ও শিহরণের স্থান সুন্দরবন।
প্রকৃতির অকৃপণ হাতের সৃষ্টি। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল হরিণ, সাপ, বানর, মাছসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী পৃথিবী বিখ্যাত। পর্যটকদের কাছে সুন্দরবনের আকর্ষণ তাই দুর্নিবার। পরিবার-পরিজন নিয়ে এবারের ঈদের ছুটিতে আপনিও ঘুরতে পারেন জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর এ বনে।
উপভোগ করে আসতে পারেন বানরের চিৎকার-চেঁচামেচি, হরেক পাখির দল, ময়ূরের কেকা ধ্বনি, অপরূপ চিত্রল হরিণের দল, বন মোরগের ডাক, কুমির, হরিয়াল, গাছের সঙ্গে পেঁচিয়ে থাকা অজগর, মৌমাছির গুঞ্জন ও বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন।
জাহাজের ডেকে বসে প্রকৃতি উপভোগ, বনের ধারে কুমিরের রোদ পোহানো আর নানা পাখির আনাগোনায় রোমাঞ্চকর অনুভূতি নিতে চাইলে সুন্দরবনের মতো ভালো জায়গা আর নেই।
সুন্দরবনে ঘুরে দেখার মতো স্পটগুলো
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণীর বৃহত্তম আবাসস্থল সুন্দরবনজুড়েই পর্যটকদের জন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার অপার সুযোগ রয়েছে। তবে সুন্দরবনে ঘুরে দেখার মতো স্পটগুলো হলো শরণখোলার টাইগার পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত কটকা, কচিখালীর অভয়ারণ্যকেন্দ্র, করমজল বন্যপ্রাণী ও কুমির প্রজননকেন্দ্র, কলাগাছিয়ায় ইকোট্যুরিজম সেন্টার, হিরণপয়েন্ট খ্যাত নীলকমল অভয়ারণ্য, দুবলারচর, মানিকখালী, আন্দারমানিক ও দোবেকী এলাকায় পর্যাটকদের আনাগোনা বেশি থাকে।
থাকতে পারেন ইকো কটেজে:
খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের ঢাংমারি গ্রামের সুন্দরী ইকো রিসোর্ট, জঙ্গলবাড়িসহ ২০-২৫টি কটেজ, বাগেরহাটের মোংলার দক্ষিণ চিলায় বাদাবন ইকো কটেজ, কয়রার বানিয়াখালীতে নিশিকুরি রিসোর্ট, ইরাবতি ইকো রিসোর্টসহ সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে উঠেছে। কর্পোরেট, কাস্টমাইজড, ফ্যামিলি, স্টুডেন্ট, বাইকার সব ধরনের ট্যুরিস্টরা এখানে আসতে পারেন।
সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে সম্পূর্ণ ইকো সিস্টেমে তৈরি কটেজ থেকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে হারিয়ে যাওয়া, ভয় ভয় অনুভূতি নিয়ে বনের ছোট খালে নৌকা ট্রিপ, ফিরে এসে কটেজের ফলগাছ থেকে বিভিন্ন জাতের দেশীয় ফল, পুকুরে অবাধ সাঁতার, বড়শি/জাল দিয়ে পুকুর অথবা ঘেরে মাছ ধরা, গ্রাম্য হাট, জেলে পল্লী ঘুরে সন্ধ্যায় কটেজের বিচ চেয়ারে বসে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায় বাদাবন ইকো কটেজে থেকে। রাতে খোলা আকাশের নিচে তাবুতে থেকে চাঁদ-তারার লুকোচুরির সঙ্গে বার-বি-কিউ পার্টি জমানো যায়।
যেভাবে যাবেন সুন্দরবন:
একদিনেই সুন্দরবন ভ্রমণ করতে চাইলে করমজল পর্যটন কেন্দ্রে যেতে পারেন।
ঢাকার মতিঝিল, আরামবাগ, শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলী থেকে গ্রিনলাইন, সোহাগ, হানিফ, ঈগল, এ কে ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন এসি/ননএসি বাস খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। এছাড়া সায়দাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলার উদ্দেশে ছেড়ে যায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। এসব বাসে পদ্মা সেতু পাড় হয়ে আগের তুলনায় খুব কম সময় খুলনায় যেতে পারেন। খুলনায় ট্রেনে এবং যশোর পর্যন্ত বিমানে যাওয়া যাবে। পাশাপাশি নৌপথেও যেতে পারেন। খুলনায় নেমে লোকাল বাসে বাগেরহাট, মোংলা যাওয়া যাবে। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি মোংলায় অনেক বিলাসবহুল বাসে যেতে পারেন। খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ করা যায়। তবে লঞ্চ বা জাহাজে যেতে হলে খুলনা ও মোংলা থেকে যেতে হবে।
পর্যটকদের সুন্দরবন ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য বাগেরহাটের মোংলা, খুলনার চালনা ও সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অনেক ট্রলার রয়েছে। এক দিনের সফরের জন্য মোংলা থেকে পশুর নদ হয়ে করমজল ও হাড়বাড়িয়া, খুলনা থেকে রূপসা-শিবসা নদী হয়ে কালাবাগী ও শেখেরটেক এবং সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ থেকে কলাকাছিয়া ও দোবেকীতে ট্রলার নিয়ে যাওয়া যায়।
ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে গেলে সাধারণত সব ধরনের ফি প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এক দিনের জন্য নিজ উদ্যোগে গেলে প্রতিটি জায়গার জন্য প্রবেশ ফি আলাদাভাবে দিতে হয়।
মোংলা থেকে খুব সকালে রওনা দিলে করমজল ও হাড়বাড়িয়া দুটি জায়গাই এক দিনে ঘুরে দেখা যায়। খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবন–সংলগ্ন কৈলাশগঞ্জ ও বাণীশান্তা ইউনিয়নে বেশ কিছু ইকো কটেজ গড়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক এখন সেখানে থেকে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। খুলনা থেকে মোংলা হয়ে কিংবা খুলনা থেকে চালনা হয়ে এসব কটেজে যাওয়া যায়। বর্তমানে খুলনা থেকে সুন্দরবনে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রায় ৬০টি জলযান রয়েছে। একেকটি জলযানে ৬ জন থেকে শুরু করে ৭৫ জন পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায়।
পর্যটক বরণে প্রস্তুত সুন্দরবন
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, পর্যটক বরণে প্রস্তুত সুন্দরবন। সুন্দরবনের পর্যটন স্পটগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে যেসব পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণে আসবেন তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দেবে বন বিভাগ। নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রসহ বন প্রহরী থাকবেন তাদের সঙ্গে।