ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

১১ উপজেলায় কৃষক কার্ড উদ্বোধন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৩৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


১১ উপজেলায় কৃষক কার্ড উদ্বোধন

ঢাকা: পহেলা বৈশাখে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম দফায় ২২ হাজার ৬৫ জন এই কার্ড পাবেন—যেখানে কৃষক, মৎস্যচাষি/আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির সব কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাক-পাইলটিংয়ের পর আগস্টের মধ্যে ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

 

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ কথা জানান। এ সময় কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, আগামী পহেলা বৈশাখ (১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন।

কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম প্রাক-পাইলটিং, পাইলটিং এবং দেশব্যাপী বাস্তবায়ন—এ তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি ব্লকে এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।

 

প্রাক-পাইলটিংয়ে ১১ এপ্রিল মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন, যা মোট কৃষকের প্রায় ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এসব কৃষকের মধ্যে ফসল উৎপাদনকারী, মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণচাষিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্ব সফল হলে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশব্যাপী এই কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি সেবা চালু করা হবে। সারা দেশের প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষক রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কৃষক কার্ড’ হবে একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র, যা কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি হ্রাসও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

মন্ত্রী বলেন, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপোঁচা ব্লক, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক ও জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন হবে।

কৃষকদের শ্রেণিবিন্যাস
জমির মালিকানার ভিত্তিতে কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে এ কার্ড বিতরণ করা হবে। ভূমিহীন কৃষক (৫ শতকের কম জমি), প্রান্তিক কৃষক (৫–৪৯ শতক), ক্ষুদ্র কৃষক (৫০–২৪৯ শতক), মাঝারি কৃষক (২৫০–৭৪৯ শতক) এবং বড় কৃষক (৭৫০ শতকের বেশি)।

দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিদের প্রণোদনাসহ ১০ সুবিধা নিশ্চিত করতে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে সারা দেশে চালু হতে যাচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ ক্রয়, সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ, সেচ সুবিধা, কৃষি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি বীমা সুবিধা পাবেন। কার্ডটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে হিসাব খোলা হয়েছে।


   আরও সংবাদ