ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬ ১৩:৩৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার
দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এর আগে প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১৭ সালে এশিয়ার পরাশক্তি দেশটিতে সফরে এসেছিলেন তিনি।
ট্রাম্পকে বহনকারী উড়োজাহাজ বুধবার (১৩ মে) বেইজিংয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের এবারের সফরে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রভাবশালী কর্মকর্তা যোগ দিচ্ছেন। জানা গেছে, সফরসঙ্গীদের তালিকায় রয়েছেন টিম কুক, ইলন মাস্ক এবং ল্যারি ফিঙ্কসহ বেশ কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা।
সফর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই সফরে ডজনখানেকের বেশি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে বড় ধরনের আয়োজন করেছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্মানে বিশেষ ভোজসভাসহ একাধিক কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে ট্রাম্পের মনে পড়ে যেতে পারে ২০১৭ সালের চীন সফরের স্মৃতি। সে সময়ও তাকে বিশেষ মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানিয়েছিল বেইজিং। এমনকি ‘নিষিদ্ধ নগরী’ ঝংনানহাই সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল, যা এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য করা হয়নি।
এবারও ট্রাম্পের সম্মানে ঝংনানহাইয়ের অন্দরমহলে বিশেষ নৈশভোজ আয়োজন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের আবাস ও কার্যালয় হিসেবে পরিচিত এ এলাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের সফরের আলোচ্যসূচি হবে বেশ জটিল ও কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও শুল্কনীতির পাশাপাশি তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুও গুরুত্ব পেতে পারে। আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এক দশক পর ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদে আবার বেইজিং যাচ্ছেন, তখন চীনও অনেক বদলে গেছে। দেশটি এখন আগের চেয়ে অর্থনৈতিক ও সামরিকখাতে আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে।
তৃতীয় মেয়াদের বড় একটি সময় পার করা শি জিনপিং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। ‘নতুন উৎপাদন শক্তি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি চীনকে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
চীনের উত্তরাঞ্চলে সৌর ও বায়ুশক্তিভিত্তিক অবকাঠামোর বিস্তার ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে স্বয়ংক্রিয় কারখানা ও সরবরাহব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রূপ দেওয়া হচ্ছে।