ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপ উত্তেজনা চরমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২১ মে, ২০২৬ ১৪:৫৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার


ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপ উত্তেজনা চরমে

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সাম্প্রতিক ফোনালাপে দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ বাক্য বিনিময়ের খবর জানিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও ইসরায়েলভিত্তিক টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে দুই দফা ফোনালাপে ইরান ইস্যুতে দুই নেতার অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান স্থগিত করার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছিলেন নেতানিয়াহু।

 

প্রথম ফোনালাপটি হয় গত রোববার। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

অভিযানের নামও নির্ধারণ করা হয়েছিল-‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’। তবে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের অনুরোধে আপাতত হামলা বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

 

এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। পরে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফা ফোনালাপে তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে জানান, হামলা স্থগিত করা ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁর মতে, সামরিক পদক্ষেপে দেরি হলে ইরান আরও কৌশলগত সুবিধা পাবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ওই ফোনালাপে তিনি সামরিক পদক্ষেপ শুরু করতে চাপ দেন। তবে ট্রাম্প তখনও কূটনৈতিক সমাধান ও সম্ভাব্য চুক্তির আশায় ছিলেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু অনেকটা ‘দিশাহারা’ হয়ে পড়েন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথ নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।

ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে আমি যা চাইব, নেতানিয়াহু তাই করবেন।’

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য নেতানিয়াহুকে নতুন রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে ফেলেছে। সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে তিনি স্বাধীন অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছেন।

সূত্র: সিএনএন ও টিওআই


   আরও সংবাদ