ঢাকা, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সিরাজগঞ্জে প্রস্তুত সোয়া ৬ লাখ পশু

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২২ মে, ২০২৬ ২০:১৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


সিরাজগঞ্জে প্রস্তুত সোয়া ৬ লাখ পশু

সিরাজগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় সোয়া ৬ লাখ গবাদিপশু। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েক হাজার খামার ও গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি এসব পশু উৎপাদন করা হয়েছে।

উৎপাদিত পশু জেলার মোট চাহিদার দ্বিগুণ। অতিরিক্ত গরু-ছাগল রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।

আর এসব পশু থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

 

জানা যায়, মৎস্য ও শস্যের পাশাপাশি গবাদিপশু পালনেও সিরাজগঞ্জ দেশের অন্যতম জেলা।

এ জেলাতেই রয়েছে দেশের বৃহৎ দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা। যমুনার চরাঞ্চলে রয়েছে বিস্তীর্ণ গো-চারণ ভূমি।

যে কারণে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে পালিত হয় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সহস্রাধিক গরুর খামার রয়েছে। খামারগুলোতে গাভীর পাশাপাশি ষাঁড় পালন করা হয়।

 

প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৬ মাস আগে থেকেই ষাঁড়সহ গবাদিপশু পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। খামারিরা সন্তানের মতো করে পশুগুলো লালন-পালন করেন। ঈদকে কেন্দ্র করে বসা স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটে এসব গবাদিপশু বিক্রি করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানির জন্য গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে মোট ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার মোট চাহিদা ২ লাখ ৯৩ হাজার পশু। উদ্বৃত্ত ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় যাবে।

জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৪৭টি পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে রতনকান্দি, কান্দাপাড়া, শালুয়াভিটা, তালগাছি, এনায়েতপুর, বোয়ালিয়া, চান্দাইকোনা, সলঙ্গা, সমেশপুর, উল্লাপাড়া গ্যাসলাইন ও সোহাগপুর গুরুত্বপূর্ণ। এসব হাটে সিরাজগঞ্জ ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে ক্রেতারা আসেন।

ইতিমধ্যে কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। সপ্তাহের প্রতিদিনই একাধিক অঞ্চলে গরু-ছাগলের হাট বসছে। এসব হাটে হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মুখরিত হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপারীরা এসে পশু কিনে ট্রাক-পিকআপযোগে নিয়ে যাচ্ছেন।

তবে গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পশুর দাম কম পাওয়ায় হতাশ খামারিরা। উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

বোয়ালিয়া হাটে আসা বিক্রেতা মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, সকাল ৯টায় গরু নিয়ে এসেছি। দুপুর ১টা পর্যন্ত বসে আছি। ক্রেতারা যে দাম বলছে, তাতে ১০ হাজার টাকা লোকসান হবে।

ইউনুস নামে অপর এক বিক্রেতা বলেন, আমার গরু উৎপাদনে খরচ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গাড়িভাড়া করে এনে ১০ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।

আব্দুল হাকিম নামে এক গৃহস্থ বলেন, তিন বছর ধরে গরু পালন করে যে খরচ হয়েছে, সেই দামও কেউ বলছে না।

সোলায়মান হোসেন নামে এক বিক্রেতা বলেন, ৯ মাস আগে ১ লাখ ৪ হাজার টাকায় গরু কিনেছি। ৯ মাসে আরও ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন হাটে সেই গরুর দাম ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলা হচ্ছে। এ দামে বিক্রি করলে ৫০ হাজার টাকা লোকসান হবে।

নুরনবী নামে এক ক্রেতা বলেন, অনেকটা কম দামে পছন্দমতো গরু কিনতে পেরেছি। গরুর আমদানি অনেক।

আব্দুল হাই নামে এক ব্যাপারী বলেন, এবার তুলনামূলক কম দামেই গরু কিনতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত ১২টি গরু কিনেছেন বলে তিনি জানান। এসব গরু তিনি ঢাকার গাবতলী হাটে বিক্রি করবেন বলে জানান।

বোয়ালিয়া হাটের ইজারাদার শাহাদত হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে এই হাটে প্রায় ২০ হাজার গরুর আমদানি হয়। এর মধ্যে আনুমানিক ৬–৭ হাজার গরু বিক্রি হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু প্রস্তুত হয়েছে। এসব পশু বিক্রির মাধ্যমে জেলায় অর্থনৈতিক লেনদেন হবে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী ৪৭টি হাটে এসব পশু বিক্রি হচ্ছে। বড় হাটগুলোতে দুটি ও ছোট হাটে একটি করে মোট ৩৯টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। আমি হাটগুলোতে ঘুরে ইন্ডিয়ান গরুর আমদানি দেখিনি। এতে খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবে।


   আরও সংবাদ