ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬ ২০:২৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১১ বার
ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলম নিজে ঋণ খেলাপি না হলেও তার স্ত্রী ঋণ খেলাপি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ পাওয়ার পর খুরশীদ আলমের নামে খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন একটি আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই ধরনের আলোচনা-সমালোচনার জবাবে বিষয়টি পরিস্কার করতে গিয়ে খুরশীদ আলমের স্ত্রীর নামে খেলাপি ঋণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
মঙ্গলবার (২ জুন) আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিক খুরশীদ আলমের স্ত্রী।
ওই ঋণ পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়েছে। ফলে খুরশীদ আলমকে ঋণখেলাপি হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয়।
তার স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি হলেও খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন।
জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের স্ত্রী আফরোজা আক্তার।
এগ্রোক্রপ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির পরিচালক তিনি। পাঁচ জনের মালিকানাধীন এ কোম্পানিটির নামে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে মেঘনা ব্যাংকের ঋণ আছে ৭৭ লাখ টাকা। বাকি ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। এ ব্যাংকটির দিলকুশা শাখা থেকে ঋণটি বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবির তথ্যে মঙ্গলবারও (২ জুন) ঋণটি খেলাপি দেখাচ্ছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আফরোজা আক্তারের নামে হলেও ঋণটির অনুমোদন ও কিস্তি পরিশোধের পুরো বিষয়টি তদারকি করেছেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম। এগ্রোক্রপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসাবে আলেয়া খানম চৌধুরী নামের একজন নারী রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জামাল মোল্লার স্ত্রী। মূলত: খুরশীদ আলম ও জামাল মোল্লার যৌথভাবে কোম্পানিটি তৈরী করেছেন। এক্ষেত্রে নিজেদের পরিচয় আড়ালে রাখতে স্ত্রীদের নাম ব্যবহার করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খুরশীদ আলমকে ঘিরে সম্প্রতি আরেকটি পুরোনো অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ একটি অফিস আদেশ জারি করে।
ওই আদেশে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশনস-২০০৩-এর ৪৪(১)(বি) ধারা অনুযায়ী তার দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বন্ধ করা হয়।
তবে দীর্ঘ আট বছর পর ওই ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরিফ হোসেন খান বলেন, সে সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে তাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তা যথাযথ ছিল না। এ কারণেই পরে তিনি নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর হিসেবে পদোন্নতি পান।
প্রসঙ্গত; খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেবল ইনক্রিমেন্ট বন্ধের মতো শাস্তি দেওয়ায় সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছিল। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগের পর পুরোনো অভিযোগগুলো আবারও সামনে এসেছে।
ঋণখেলাপির অভিযোগ এবং অতীতের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই খুরশীদ আলমকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ঋণখেলাপির তথ্য সঠিক নয় এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন।