ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

খামারিদের স্বার্থে পোল্ট্রির ন্যায্যমূল্য চায় বিপিএ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২৬ ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার


খামারিদের স্বার্থে পোল্ট্রির ন্যায্যমূল্য চায় বিপিএ

উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ এবং প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটির দাবি, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও খামারিরা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় পোল্ট্রি খাত গভীর সংকটে পড়েছে।

 

রোববার (২৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছে বিপিএ।

বিবৃতিতে বিপিএ জানায়, একসময় দেশের মানুষের সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রান্তিক পোল্ট্রি খাত বর্তমানে টিকে থাকার লড়াই করছে।

 

সংগঠনটি জানায়, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারের অস্থিরতা, মূলধনের সংকট এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক খামারিরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে অনেকেই খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন।

এতে একের পর এক ক্ষুদ্র খামার হারিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের পোল্ট্রি খাত ধীরে ধীরে বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

 

বিপিএর ভাষ্য, ডিম ও মুরগির দামের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

অনেক সময় উৎপাদক লোকসানে বিক্রি করলেও ভোক্তাকে বেশি দাম দিতে হয়। এই মূল্য ব্যবধানের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বাজারে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অযৌক্তিক প্রভাব থাকলে তা প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর এবং প্রান্তিক খামারিদের সংকট আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একদিকে বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হচ্ছে না। এতে খামারিরা উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতা উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিপিএ-এর দাবি, ডিম ও ব্রয়লার মুরগির বাজারে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে অযৌক্তিক মূল্য প্রভাব, কারসাজি বা প্রতিযোগিতাবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ, প্রণোদনা, বিমা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। 

এছাড়াও খাদ্য, বাচ্চা ও ওষুধের বাজারে কার্যকর নজরদারি বাড়িয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।


   আরও সংবাদ