ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ থাকবে না, তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
একই সঙ্গে আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদ নেতার পক্ষে সমাপনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা তাকে ফেরত চাই। আমরা চাই তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন।
আইনমন্ত্রীও বলেছেন, তিনি যেহেতু দণ্ডপ্রাপ্ত, তাই দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। তিনি ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। আপিলের কোনো সুযোগ থাকলে সেটি আইন-আদালত নির্ধারণ করবে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীরকে অন্তর্বর্তী সরকার দেড়-দুই বছরেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমরা সরকারে আসার তিন মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ৩০ দিনের পরিবর্তে তিন দিনের মধ্যে পাঠানো হয়েছে। এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় আছি।” এছাড়া হাদি হত্যা মামলার তিন আসামিকে ফেরত আনতে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে প্রয়োজনীয় নথি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি জানান, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হবে এবং ওই দিন থেকেই এটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরটির উদ্বোধন করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই ফাউন্ডেশন’ বহাল থাকবে এবং এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শহীদ পরিবারের সদস্যদের এককালীন ৩০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আহতদের তিন শ্রেণিতে ভাগ করে ‘ক’ শ্রেণির জন্য ৫ লাখ, ‘খ’ শ্রেণির জন্য ৩ লাখ এবং ‘গ’ শ্রেণির জন্য ১ লাখ টাকা এককালীন অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ‘ক’ শ্রেণির আহতরা মাসে ২০ হাজার, ‘খ’ শ্রেণির আহতরা ১৫ হাজার এবং ‘গ’ শ্রেণির আহতরা ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। সামর্থ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতে এ ভাতার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। গুরুতর আহতদের প্রয়োজন হলে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই বাংলাদেশের সব মুক্তিকামী মানুষের। এর কৃতিত্ব যেন কেউ এককভাবে দাবি না করে। ভবিষ্যতের কোনো সরকার যেন ফ্যাসিবাদী আচরণ করার সাহস না পায়, সে শিক্ষা আমাদের নিতে হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বাকস্বাধীনতার কথা বলব, আবার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করব, তা হবে না। তবে কেউ যদি আগের স্বৈরাচারী আচরণে ফিরে যেতে চায়, তার জবাব দেওয়া হবে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রাষ্ট্রের স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষ।
বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি ট্রাইব্যুনালের পরিবর্তে দুটি ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন ও তদন্ত দল গঠন করা হবে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে শহীদের সংখ্যা এক হাজার ৪০০ উল্লেখ করা হলেও সরকারের হিসাবে তা দুই হাজারের বেশি। আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।