ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:২৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে এ টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর বর্তমানে জ্বর রয়েছে বা অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে কর্মসূচি
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
যে ৩০ উপজেলায় টিকা দেওয়া হচ্ছে
প্রাথমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা উপজেলাগুলো, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, নাটোর সদর এবং যশোর সদর।
আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক
শনিবার (৪ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রথম ধাপে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকা দেওয়া হবে।
উদ্বোধনের দিনে পাঁচটি স্থানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন এবং বাকি উপজেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনরা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
তিনি বলেন, আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক, ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকেই পুনরায় টিকা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, হাম আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এ কারণেই প্রথম ধাপে এই বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
হাম বা জ্বরে আক্রান্ত শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’
টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাম আক্রান্ত বা জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না।
স্কুল-কমিউনিটি সেন্টারেও টিকা
আগের নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারেও এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টিকাদান কর্মসূচি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু থাকবে।