ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র‑ইরান যুদ্ধবিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:২৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার


 ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র‑ইরান যুদ্ধবিরতি

লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংঘাতের ছয় সপ্তাহ পর যখন যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই হামলা পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।

 

বুধবার লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত ২৫৬ জন নিহত হন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও হত্যা করা হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, তারা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালাচ্ছে।

 

এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমার আশা দেখা দিয়েছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, তার সরকারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির আওতায় সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বিশেষভাবে লেবাননের কথাও উল্লেখ করেন।

 

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র, তাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে সর্বত্র, লেবাননসহ, তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্ত কেবল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা যুদ্ধবিরতির অংশ নয় এবং এটি আলাদা একটি সামরিক পদক্ষেপ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থানগত পার্থক্যই যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তা আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে কার্যত অকার্যকর করে দিতে পারে।

যুদ্ধবিরতি ঘিরে বিভ্রান্তি, লেবাননে নতুন করে রক্তপাত
সাম্প্রতিক সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পরিধি নিয়ে বড় ধরনের মতবিরোধ ও বিভ্রান্তি সামনে এনেছে। এতে করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা শুরুর আগেই এই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে পারে। আগামী শনিবার ইসলামাবাদে এ সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পর লেবাননে ইসরায়েলের হামলা
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরুর পর এটিই ছিল ইসরায়েলের সবচেয়ে বিস্তৃত হামলা। দেশজুড়ে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রাজধানী বৈরুত, বেক্কা ভ্যালি ও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় চালানো বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১১৬৫ জন আহত হয়েছেন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোও এই হামলার বাইরে থাকেনি।

লেবাননের চিকিৎসকদের সংগঠনের প্রধান ইলিয়াস চেলেলা এক বিবৃতিতে জরুরি ভিত্তিতে সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যেকোনো হাসপাতালে গিয়ে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান। বৈরুতের একটি বড় হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদের সব ধরনের রক্তের প্রয়োজন।

জাতিসংঘ হতাহতের এই সংখ্যা ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক ধ্বংসযজ্ঞকে ‘ভীতিকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অন্যদিকে লেবাননের কর্মকর্তারা এবং ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পুরো মহল্লা ধ্বংস হয়ে গেছে, হাসপাতালগুলো রোগীতে উপচে পড়ছে এবং জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

লেবাননে হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’, যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন
লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলের হামলাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি।

তিনি বলেন, আজকের এই অপরাধ এমন এক সময় ঘটেছে, যখন অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। একটি চুক্তি, যা ইসরায়েল এবং তাদের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা
যুদ্ধবিরতিকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে লেবানন এই চুক্তির আওতায় আছে কি না, তা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরায়েল এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তারা চুক্তির পরিধি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

যদিও এই নাজুক যুদ্ধবিরতা বাস্তবায়নে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। ইরানও জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে।

পাকিস্তানের ঘোষণা উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা যুদ্ধবিরতি চায়, নাকি ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। দুটো একসঙ্গে সম্ভব নয়। লেবাননে গণহত্যা বিশ্ব দেখছে। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।

লেবানন ইস্যুতে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা লেবাননের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে এবং সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে এমন আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে তা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে দুর্বল করবে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই নাজুক যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে বলেন, এটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘সম্পূর্ণভাবে শত্রুতা বন্ধ’ করবে। তবে পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন, লেবাননের পরিস্থিতি ‘আলাদা সংঘর্ষ’।

এই অবস্থান আরও জোরালো করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান ভেবেছিল যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।

শনিবার ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথাও রয়েছে তার।

ইসরায়েলও একই অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘লেবাননের ব্যাপারে ইসরায়েলকে বাধ্য করে না’ এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবে।

কেন লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ইরান
লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় রাখার বিষয়ে ইরানের জোরালো অবস্থানের পেছনে রয়েছে কৌশলগত ও রাজনৈতিক কারণ। হিজবুল্লাহ ইরান-সমর্থিত একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী, ফলে লেবাননে সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা সরাসরি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে যায়।

একই সঙ্গে, তেহরান চাইছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সীমাবদ্ধ না থেকে যুদ্ধবিরতি আঞ্চলিকভাবে কার্যকর হোক। তাদের মতে, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতির প্রকৃত অর্থই নষ্ট হয়ে যাবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, লেবানন ইস্যুতে আলোচনা ভেঙে দেওয়া ইরানের জন্য ‘বোকামি’ হবে।

তিনি বলেন, ইরান যদি এমন একটি সংঘাতে যেখানে তারা চাপে ছিল, লেবানন ইস্যুতে আলোচনাকে ভেঙে দিতে চায়, যা তাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয় এবং যা কখনোই যুদ্ধবিরতির অংশ ছিল না, তাহলে সেটি তাদের সিদ্ধান্ত। আমরা মনে করি, সেটি বোকামি, তবে সিদ্ধান্ত তাদেরই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মতবিরোধই এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। লেবাননকে কেন্দ্র করে অবস্থানগত এই ফাঁক থেকেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে পারে, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাতের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে।

লেবানন অ্যাকিলিস’ হিল: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি ঝুঁকিতে
জেডি ভেন্স লেবাননকে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন বললেও, বাস্তবতা ভিন্ন। লেবাননের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক মিত্র এবং ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ কেন্দ্রীয় অংশ। এটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্ত, যেমন ইয়েমেনের হুথিরা এবং ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ, যারা ইরানের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কাজ করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর হিজবুল্লাহ সংঘাতে প্রবেশ করে। এর আগে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা করেনি, যদিও ইসরায়েল প্রায় দৈনিকভাবে চুক্তি লঙ্ঘন করছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার শর্তের মধ্যে উল্লেখ করেছে, তেহরানকে তার আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন বন্ধ করতে হবে, যার মধ্যে হিজবুল্লাহ অন্যতম। লেবাননকে যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখলে ইরানের বহু দশক ধরে তৈরি প্রতিরক্ষা নীতি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। হিজবুল্লাহ যদি হামলার শিকার হয়, কিন্তু ইরান সমর্থন না দেয়, তেহরান তার প্রভাব হারাতে পারে এবং প্রতিরোধ নেটওয়ার্কে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা এখন সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক আন্দ্রেস ক্রিয়েগ বলেছেন, লেবানন হলো যুদ্ধবিরতির ‘অ্যাকিলিস হিল’। অর্থাৎ, লেবানন যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। অঞ্চলটি ইরানকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে যাতে প্রভাবের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রদর্শিত হয়। 

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল ইরানের সংকল্প পরীক্ষা করার জন্য সুযোগ খুঁজবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্ব সম্প্রদায় লেবাননে ইসরায়েলের হামলার মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের অন্তর্ভুক্তি দাবি করেছে।

কাতার এই হামলাকে ‘নৃশংস সিরিজ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপের আহ্বান করেছে। মিশর এটিকে ইসরায়েলের ‘প্রত্যক্ষ পরিকল্পিত পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখেছে, যা অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা ব্যাহত করছে। তুরস্ক জানিয়েছে, হামলা লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, নেতানিয়াহুর জীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা সহ্য করা যায় না। ফ্রান্সও হামলা নিন্দা জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের অন্তর্ভুক্তি চেয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট্ট কুপার বলেছেন, লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনা উচিত এবং ইসরায়েলের অব্যাহত হামলাকে ‘সম্পূর্ণভাবে ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তিনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, লেবাননে চলমান সামরিক কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে।


   আরও সংবাদ