ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ মে, ২০২৬ ১৬:৫৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে সামরিক বাহিনীর সদস্য বহনকারী একটি ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
রোববার (২৪ মে) বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটা শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় রেললাইনের পাশে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
ঠিক তখনই ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। খবর দ্য ডনের।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায় এবং আগুন ধরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় আরও ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাস্থলটি এমন একটি এলাকা, যেখানে সাধারণত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকেন। বিস্ফোরণে আশপাশের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের পাশে পার্ক করা এক ডজনের বেশি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি।
বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ বলেন, নিরীহ বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। মূল্যবান প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর কোয়েটার হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং হামলার তদন্ত শুরু হয়েছে।
বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতায় অস্থির একটি অঞ্চল। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বিএলএ এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বহনকারী ট্রেনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তেল ও খনিজসম্পদসমৃদ্ধ বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।
এর আগেও একই ধরনের হামলার দায় স্বীকার করেছিল বিএলএ। ২০২৪ সালের নভেম্বরেও কোয়েটার একটি রেলস্টেশনে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সেনাসদস্যও ছিলেন।