ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২৬ ১০:২৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪৩ বার
দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি আপাতত বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে সিলেট ও রংপুর বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
সোমবার (২২ জুন) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, দেশের সব প্রধান নদ-নদী বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে তিস্তা নদী ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর স্টেশনে, সুরমা নদী ছাতক ও সুনামগঞ্জ স্টেশনে, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট ও রংপুর বিভাগে বন্যার পূর্বাভাস
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই দিন দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এর পরবর্তী তিন দিন মাঝারি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
এর ফলে আগামী তিন দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ সময়ে নদীগুলো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একইসঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের ধরলা, দুধকুমার ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে এসব অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
প্রধান নদ-নদীর অবস্থা
গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি সমতলও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যান্য অববাহিকার চিত্র
ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুলাই ও কংস নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিন দিন আরও বাড়তে পারে। এ সময়ে নদীগুলো নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় সতর্কসীমার কাছাকাছি বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট বিভাগের ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে সারিগোয়াইন, মনু ও যাদুকাটা নদীর পানি কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। তবে আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।