ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ঢাকার পার্ক ও মাঠ ব্যবস্থাপনায় এলাকাবাসীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৩০ জুন, ২০২৬ ১৬:৪৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার


ঢাকার পার্ক ও মাঠ ব্যবস্থাপনায় এলাকাবাসীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের দাবি

ঢাকার মোট ১২৯ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১০টি ও ঢাকা দক্ষিণের ৩১টি ওয়ার্ডে কোন পার্ক ও খেলার মাঠ নেই। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে ঢাকার উন্মুক্ত স্থানগুলো দখলে আর দূষণে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মাঠ-পার্ক রক্ষা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এলাকাবাসীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানাই। আজ ৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, সকাল ১০.০০ টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট কর্তৃক সংস্থার ˆকবর্ত সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ঢাকার পার্ক ও খেলার মাঠ : নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা মো: মিঠুন এর সঞ্চালনায় এবং সংস্থার পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বারসিক এর এ্যাগ্রো-বায়োডাইভার্সিটি, ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ফুড সিকিউরিটি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিবেশবাদী ছাত্র-যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েস এর সংগঠক ও সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমন, প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির ইবনুল সাঈদ রানা এবং তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলন এর সমন্বয়ক উন্নয়ন কর্মী সৈয়দা রত্না।

মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাঠ-পার্কগুলো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল নকশা প্রণয়ন থেকে বিরত থেকে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে খরচ অনেকটা কমে আসবে এবং রক্ষণাবেক্ষণও অনেক সহজ হবে। আমাদের নগরে মাঠ-পার্কের সংখ্যা যথেষ্ট অপ্রতুল। এ অবস্থায় দখলকৃত মাঠ-পার্ক ও বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় গণপরিসর হিসেবে চিহ্নিত সকল স্থান পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের পাশাপাশি রাজউক, গণপূর্ত ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা দূর করতে পার্ক ও মাঠের ব্যবস্থাপনা একটি নির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনা আবশ্যক।

হুমায়ুন কবির সুমন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক-মাঠ উন্নয়নের নামে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা হয়। এরপর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হলেও তা বিভিন্ন ক্লাব বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়। একাডেমীগুলো টাকার বিনিময়ে খেলাধূলা করলেও সাধারণ জনগণের প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনতিবিলম্বে সকল মাঠ-পার্ক নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানাই। হাইকোর্ট এ বছরের শুরুতেই ঢাকা শহরের সকল মাঠ-পার্কের তালিকা ˆতরি, বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদ, এবং সকলের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতের নির্দেশনা প্রদান করেছে। আমাদের প্রত্যাশা এর মাধ্যমে নাগরিকরা উপকৃত হবেন।

ইবনুল সাঈদ রানা বলেন মহানগরী, বাংলাদেশে শক্তিশালী আইন থাকা সত্ত্বেও এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা গণপরিসরের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিটি পার্ক-মাঠের বর্তমান নকশা 'মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০', পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ও বিধিমালার (২০২৩) এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, তা যাচাইয়ের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে নিয়মিত সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করতে হবে।

ˆসয়দা রত্না বলেন, উন্নয়ন কাজে এলাকাবাসীর সম্পৃক্ততা না থাকায় তাদের চাহিদার প্রতিফলন মাঠ-পার্কে থাকছে না। সকল বয়স, লিঙ্গ ও সামর্থ্যরে মানুষের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় মাঠ-পার্কের নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঠে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে গাউস পিয়ারী বলেন, আমাদের নগর পরিকল্পনায় শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা নারীদের চাহিদার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেয়া হয় না। আমরা শিশুদের শারীরিক মানসিক বিকাশকে গুরুত্ব দিচ্ছি না বরং খেলার মাঠগুলোকে বাণিজ্যিকীকরণ করছি। বয়োবৃদ্ধরাও ঘরে আটকে থেকে বন্দি জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর গড়ে তুলতে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এম এ মান্নান মনির, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এইচ এম নুরুল ইসলাম, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: তাহাজ্জাত হোসেন, বেঙ্গলী মিডিয়াম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র দাস, মধু বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার, শের-ই-বাংলা আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেন অপু, লরেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর সহকারি শিক্ষক শামসুন নাহার পান্না, কনফিডেন্স মেমোরিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, শাপলা একাডেমীর প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তার, ঢাঃদঃসিঃকঃ ২৩ নং ওয়ার্ড মোবাইল প্লেগ্রাউন্ড আয়োজন এর সমন্বয়কারী মোঃ সেলিম, ছায়াতল বাংলাদেশের এর হেড অফ প্রোগ্রাম মেহেবুবা হক, এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।


   আরও সংবাদ