স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৩:১৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৮১ বার
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি রাজনীতির মাঠে নিজের অবস্থান শক্ত করতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের হুঙ্কার দিলেও, বাস্তবে সেই পথে হাঁটা পাকিস্তানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।
তথ্য বলছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করলে বা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে শুধু আইনি জটিলতাই নয়, বিশাল অংকের জরিমানার মুখে পড়ে দেউলিয়া হতে পারে পিসিবি।
আইসিসির প্রতিটি সদস্য দেশের মতো পিসিবিও ‘মেম্বার পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট’ বা সদস্য অংশগ্রহণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতামূলক দলিল।
এই চুক্তির বরখেলাপ করলে আইসিসি কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় ভয় সম্প্রচারকারী সংস্থাকে নিয়ে।
ভারতের ‘রেভস্পোর্টজ’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডিং প্রোগ্রাম থেকে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার বেশি) আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকে সম্প্রচারকারী সংস্থার। পাকিস্তান যদি এই ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে বিশাল এই ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চেয়ে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান পিসিবির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।
ফলে স্রেফ এক জেদের বশে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে পাকিস্তান ক্রিকেট।
২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে গত সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মহসিন নকভি। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিসিবি প্রধান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসির বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তিনি সব ধরণের বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী শুক্রবার বা সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ হতে না দেওয়ার প্রতিবাদে সংহতি জানাতে পাকিস্তান দল না পাঠানোর যে রাজনৈতিক কৌশল নকভি নিয়েছেন, তা মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাহবা পাওয়ার চেষ্টা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কিন্তু মাঠের বাস্তবতা হলো, বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় কাঠামো আর্থিক ধ্বংসের মুখে পড়বে। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এরই মধ্যে স্কোয়াড ঘোষণা করলেও পাকিস্তান ক্রিকেট এখন স্রেফ সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।