ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ইতোমধ্যে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে টেকসই উন্নয়নের সমঅংশীদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং কর্মক্ষম নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে।
তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দরিদ্র ও অসচ্ছল নারীদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রম, গর্ভবতী মায়ের গর্ভকালীন পুষ্টি এবং শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের লক্ষ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশন পরিচালনা ইত্যাদি।
তিনি বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোল-ফ্রি হেল্পলাইন, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং নারী, শিশু ও কিশোরীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ কর্মসূচিতে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসূচিতে প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা অন্তর্ভুক্ত করা, টিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মানসম্মত প্রশিক্ষণ, নগদ সহায়তার সঙ্গে জীবিকা সহায়তা যুক্ত করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের জন্য পৃথক গ্রাজুয়েশনভিত্তিক মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিকসংখ্যক নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও নারীদের জন্য বিপণন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
ইতোমধ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা ও তিনটি সিটি করপোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, শিশুরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। শিশুর বিকাশ ও কল্যাণে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ, জাতীয় শিশু পুরস্কার, প্রতিযোগিতা আয়োজন, শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ, দরিদ্র ও দুস্থ শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক ও শিশু বিকাশ কর্মসূচি, অটিজম বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ শিশুস্বার্থ সংরক্ষণে নানাবিধ দায়িত্ব পালন করে আসছে।
পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় দুটি আবাসিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বর্তমানে ১৫১ জন শিশুকে আবাসন, খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও এ কার্যক্রমের আওতায় ৯টি আউটরিচ স্কুল রয়েছে।
কর্মজীবী মায়েদের ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের দেখভালের জন্য মোট ৬৪টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে সুষম খাবার, প্রাক-স্কুল শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং ইনডোর খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে।
নারীদের কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) স্থাপনের পাশাপাশি গার্মেন্টসসহ সব শিল্পকারখানা, অফিস ও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপনের বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততার ঝুঁকি প্রশমন, অভিযোজন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং জীবিকার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘Gender Responsive Climate Adaptation (GCA)’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৪৩ হাজার নারীকে জীবিকা সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ হাজার ৩০৮টি পরিবারভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয়েছে এবং উপকারভোগীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার আরও ২ হাজার পরিবারভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া এ অর্থবছরে আরও ১০ খানাবিশিষ্ট ৬৫৮টি কমিউনিটিভিত্তিক রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে।
সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা জেলার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার ভয়াবহ নদীভাঙন ঝুঁকি সম্পর্কে সরকার অবগত। দাকোপ উপজেলায় ৬০-এর দশকে নির্মিত বেড়িবাঁধটি নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলাবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদীভাঙন রোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ‘Disaster Risk Management Enhancement Project’-এর আওতায় নদীভাঙন রোধে কাজ চলমান রয়েছে, যা জুন ২০২৭-এ শেষ হবে।
এছাড়া ‘উপকূলীয় পোল্ডার নং ৩১ পুনর্বাসন’ প্রকল্প যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে এবং ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।