ঢাকা, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

প্রাণ গেল কনস্টেবল ইমনের

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২২ মে, ২০২৬ ২০:১২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার


 প্রাণ গেল কনস্টেবল ইমনের

সাহসিকতার পরিচয় দিতে গিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিলেন র‌্যাব-৯-এর কনস্টেবল ইমন আচার্য্য। ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে জীবন দিতে হলো তাকে।

 

শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে থানার অদূরে ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন সিলেটের সুরমা নদীর তীর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, ঘটনার সময় ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য।

এমন সময় কোতোয়ালি থানার অদূরে তোপখানা এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাচ্ছিল ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পী (২২)। পালানোর পথে ক্বীন ব্রিজ সংলগ্ন চাঁদনীঘাট নদীর তীরে তাকে ঝাপটে ধরেন সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্য ইমন।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারী র‌্যাব সদস্যের বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে। মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটক করেছে পুলিশ। সে নগরের কাজিরবাজার মোঘলটুলা এলাকার আবুল হোসেন ও রুবিনা বেগম দম্পতির ছেলে।

নিহত ইমন আচার্য্যের কনস্টেবল নম্বর ৬৯১৭৯০। তিনি দীর্ঘদিন ধরে র‍্যাব-৯ সিলেটে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায়।

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি থানার পশ্চিম পাশে পুলিশের একটি দল এক ছিনতাইকারীকে ধরার জন্য ধাওয়া করছিল। এসময় ব্যক্তিগত কাজে সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য সেখানে ছিলেন। পুলিশকে ছিনতাইকারীর পেছনে দৌড়াতে দেখে তিনি তাকে ধরার চেষ্টা করেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারী তার বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযান চালিয়ে হামলাকারী ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ছিনতাইকারীদের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিছু দুর্বৃত্ত পথচারী ও সাধারণ মানুষের গতিবিধির সুযোগ নিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে একা চলাচল করা মানুষ ও অটোরিকশা যাত্রীদের টার্গেট করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এবার ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে খোদ র‌্যাব সদস্যের প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটল।


   আরও সংবাদ