আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৯:৩৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার
রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মামলার শুনানিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং বলেন, ‘গাম্বিয়া তার অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এই মামলার নিষ্পত্তি হতে হবে প্রমাণিত তথ্যে, ভিত্তিহীন অভিযোগে নয়।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের ওপাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর ওপর নির্মূলাভিযানের প্রেক্ষাপটে মুসলিম-অধ্যুষিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলাটি দায়ের করে।
সম্প্রতি গাম্বিয়া আদালতকে জানায়, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়েই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
রাখাইনে যুগের পর যুগ নিপীড়িত হয়েছে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা। ফলে বিভিন্ন সময় সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এই জাতিগোষ্ঠীর অনেক লোক। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নামে ২০১৭ সালে।
তখন মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী এক ন্যক্কারজনক অভিযান শুরু করলে অন্তত সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা নিজ বাড়িঘর ছেড়ে কক্সবাজারে চলে আসতে বাধ্য হয়। তারা রাখাইনে হত্যা, গণধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের বর্ণনা দেয়।
জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধান মিশনের তথ্য মতে, ২০১৭ সালের ওই সামরিক অভিযান ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ ছিল।
তবে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার বরাবরই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কো কো হ্লাইং বিচারকদের জানান, মুসলিম জঙ্গিদের হামলার জবাবে ওই অভিযান ছিল ‘বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম’।
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের অনুসন্ধান মিশনটি নিরপেক্ষ বা বিশ্বাসযোগ্য নয়’।
তবে গাম্বিয়ার আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ হাজার হাজার রোহিঙ্গা বেসামরিক মানুষের ওপর আক্রমণ এবং তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়াকে কেবল সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বিচারকদের জন্য অযৌক্তিক হবে।
তাদের মতে, দমন-পীড়নের সময়কার আচরণের ধরন থেকেই আইনের সংজ্ঞা মতো সেখানে ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ প্রকাশিত হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মিয়ানমার সরকার
কো কো হ্লাইং জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে কোভিড-১৯ মহামারি, ঘূর্ণিঝড় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণগুলো ওই প্রচেষ্টা ব্যাহত করেছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত এবং এটি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে। রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ২০২৬ সালের শেষের দিকে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।