স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬ ১৯:৩৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৫ বার
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান অচলাবস্থা কাটাতে ঢাকায় আসছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুই কর্মকর্তা। শনিবার বাংলাদেশে পৌঁছে তারা বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবির পর থেকেই বিষয়টি জটিল অবস্থায় আছে।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেওয়া বক্তব্যে বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান জানিয়েছেন, আইসিসির প্রতিনিধিরা শনিবার ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে বসতে আগ্রহী এবং আশা করছি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো যাবে। আইসিসির প্রতিনিধিরা শনিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছাবেন এবং শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকায় এই সফরকে আইসিসির শেষ মুহূর্তের উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে শুধু চাপ প্রয়োগ নয়, বিসিবিকে আস্থায় রাখার দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
যাতে বাংলাদেশ নিজেকে আইসিসি কিংবা বৈশ্বিক ক্রিকেট সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করে।
এর আগে বুধবার এক ভিডিও কলে আলোচনা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানা গেছে। সেই বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অসন্তোষ প্রকাশ করলে আলোচনায় বড় ধাক্কা লাগে। এরপরও আইসিসি ফের যোগাযোগ করে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জায়গা খুঁজতে উদ্যোগ নেয়।
এবার আলোচনায় দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিরাও থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
এই ইস্যুর কেন্দ্রে ভারতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কার পাশাপাশি মোস্তাফিজুর রহমানের ইস্যুও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতের ঝুঁকি ‘মাঝারি থেকে কম’ হিসেবে দেখা হয়েছে, যা তাদের মতে ব্যতিক্রমী বা অস্বাভাবিক নয়। বিপরীতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, ‘মাঝারি থেকে উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে।
আইসিসির প্রতিনিধিরা বিসিবিকে বোঝাতে চাইবেন, বাংলাদেশ আইসিসি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাকি ১৯ দলের স্বার্থ ও লজিস্টিক বাস্তবতাও সমান গুরুত্ব পায়।
শেষ মুহূর্তে ভেন্যু বদল বা সূচিতে বড় পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোর জন্য একটি অনাকাঙ্ক্ষিত নজির তৈরি হতে পারে বলেই আইসিসি ও বিসিসিআই সতর্ক অবস্থানে আছে।
আরও একটি দিক আলোচনায় এসেছে। গত ২৫ নভেম্বর সূচি ঘোষণার পর প্রায় তিন সপ্তাহ বিসিবির পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি না ওঠায় এখন পরিবর্তন আনা কঠিন বলে আইসিসির অবস্থান। এ ছাড়া বিসিবি নিজেদের নিরাপত্তা প্রতিবেদন থাকার কথা বললেও সেটি এখনো আইসিসি বা বিসিসিআইকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখানো হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিও কলে বিসিবির পক্ষে সভাপতি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন সহসভাপতি এমদাদ শাকাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন, সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরীসহ একাধিক কর্মকর্তা। আইসিসির পক্ষ থেকেও আইন, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনায় ছিলেন।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচ খেলবে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ৭, ৯ ও ১৪ কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর শেষ ম্যাচে ফেব্রুয়ারি ১৭ তারিখে মুম্বাইয়ে নেপালের মুখোমুখি হওয়ার কথা বাংলাদেশের। এখন ঢাকায় আইসিসির এই সফর শেষ পর্যন্ত কোন পথে সমাধান এনে দেয়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।