ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

জিম্মি করে ৩২ লাখ টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণ লুট

স্টাফ রিপোর্টার


প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৮ বার


জিম্মি করে ৩২ লাখ টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণ লুট

পোরশা প্রতিনিধি
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় নিঃসন্তান এক বৃদ্ধ দম্পতিকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জমি বিক্রির গচ্ছিত ৩২ লাখ টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের আলোচিত ঘটনার প্রায় তিন মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নওগাঁ জেলা শাখা।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন পোরশা উপজেলার গোলাম সারোয়ার এবং তাঁর ছেলে ফজলে আহমেদ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ফজলে আহমেদের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার, পিবিআইয়ের তদন্ত এবং আসামির জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতির দেখাশোনার জন্য আত্মীয় ফজলে আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুনকে একই বাড়ির দোতলায় থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসের সুযোগে তারা জানতে পারেন, জমি বিক্রির বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার বাড়িতেই সংরক্ষিত রয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত সাড়ে ১১টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফজলে আহমেদ ও ফাতেমা খাতুন বৃদ্ধ দম্পতির শোবার ঘরে প্রবেশ করেন। পরে ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তাদের জিম্মি করে আলমারির চাবি নিয়ে লকার থেকে জমি বিক্রির গচ্ছিত ৩২ লাখ টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বাদী হয়ে ফজলে আহমেদ, গোলাম সারোয়ার ও ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে নওগাঁ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পোরশা থানায় দণ্ডবিধির ৩৯২/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় নিয়মিত মামলা (মামলা নং-০২, তারিখ: ০৪ জুলাই ২০২৬) রুজু করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার পিবিআই নওগাঁ জেলা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আসাদুজ্জামান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুলাই ২০২৬ দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে নওগাঁ সদর থানার বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফজলে আহমেদ ও তাঁর পিতা গোলাম সারোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফজলে আহমেদ ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই নওগাঁ জেলা কার্যালয় জানিয়েছে, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হলেও লুণ্ঠিত নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার এবং পলাতক আসামি ফাতেমা খাতুনকে গ্রেফতারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
 


   আরও সংবাদ